কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার জোয়ানশাহী হাওরে টানা অতিবৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। একই সঙ্গে কৃষিজমির পাশে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, টানা অতিবৃষ্টির ফলে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে জোয়ানশাহী হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত তলিয়ে যায়। এই হাওরের ওপর নির্ভরশীল ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর, সাদেকপুর ও আগানগর ইউনিয়নের কৃষকরা প্রতি বছর বোরো ধান চাষ করে থাকেন। এবার ফসল ঘরে তোলার একেবারে চূড়ান্ত মুহূর্তে এমন ক্ষতিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সারা বছরের ঋণ ও পরিশ্রমের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
একজন কৃষক বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। ধান পানির নিচে, এখন আর কিছু করার নাই।”
আরেকজন কৃষক জানান, “খেত থেকে ধান তোলার সুযোগই পাইনি, তার আগেই সব তলিয়ে গেছে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিজমির পাশেই নতুন করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও ফসলি জমির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটার মালিক হাজী মো. মুছা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তিনি দাবি করেছেন, ইটভাটার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জানান, জেলায় সীমিত সংখ্যক ইটভাটার অনুমোদন রয়েছে এবং অনিয়মিত বা অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পূর্বে এই এলাকায় একটি ইটভাটা আন্দোলনের মুখে বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সেটি পুনরায় সংস্কার করে চালুর চেষ্টা চলছে, যা কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পরিবেশগত অনিয়মের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, জোয়ানশাহী হাওরের এই বিপর্যয়ে কৃষকদের বছরের একমাত্র ফসল এখন পানির নিচে। এখন দেখার বিষয়, দ্রুত সহায়তা কতটা পৌঁছায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে।
পড়ুন:মাদকের টাকার জন্য মায়ের ওপর নির্যাতন, মিরসরাইয়ে ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড
দেখুন:মাশরুম চাষ পাল্টে দিয়েছে সফি উল্যার জীবন
ইমি/


