কিশোরগঞ্জ শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উঠতি বয়সী কিশোরদের বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালিয়ে মোট ৪৪ জন কিশোর ও শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সোমবার রাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট, মোড় এবং জনসমাগমস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৩১ জন শিক্ষার্থী এবং ১৩ জন বিভিন্ন কর্মরত কমবয়সী শ্রমিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশ সুপার ও ওসি তাদের অভিভাবকদের খবর দেন। অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হলে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় পুলিশ কর্মকর্তারা কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং অপ্রয়োজনে রাতে বাইরে ঘোরাঘুরি না করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এরপর ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়ে সন্তানদের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আমাদের লক্ষ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অপরাধজগত থেকে দূরে রাখা। অভিভাবকরা সচেতন হলে এবং সন্তানদের সময় দিলে তারা কোনো ভুল পথে পা বাড়াবে না। এটি কেবল একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
পুলিশের এই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা জানান, পুলিশের এই কড়াকড়ি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ সন্তানদের সঠিক পথে ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এ সময় অনেক অভিভাবক পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কিশোর গ্যাং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশের এমন তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন- শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: ভয়াল এক রাতে রক্ত, চিৎকার আর বাঁচার শেষ চেষ্টা


