২০২৪ সাল যেন এক নব দিগন্তের সূচনা। ৭১, ৬৯ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলন। ইতিহাসের সকল বাঁক পেরিয়ে এই যেন এক সুভ্র ধ্রুঁবতারা। দেশের নানা পট পরিবর্তনের সাথে ছোঁয়া লেগেছে বিচার বিভাগেও। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসা, গণভোটের বিধান, আলোচিত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার ও দশট্রাক অস্ত্র মামলাসহ নানা আলোচিত রায়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বিচার বিভাগে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর পাল্টে যায় অনেক কিছু। জুলাই পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রদবদলের সাক্ষী হয় বিচার বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হন আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম।
যদিও তাঁকে প্রত্যাখান করে সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি করার দাবী জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর আগে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে ঘটে এক নজির বিহীন ঘটনা।
২০২৪: বিচার বিভাগের অচলায়তন ভেঙ্গে ফেলার শপথ:
২০শে অক্টোবর আপিল বিভাগ, বিচারপতি অপসারণ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের রায় দেন। অন্ধকার থেকে যেন আলোতে আসল বিচার বিভাগ।

২৪ এর ঝুঁড়িতে বিচার বিভাগের পরিবর্তনের পাশাপাশি আলোচনায় আসে নানা মামলার রায়। ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো ঢাকার একটি বিশেষ আদালত। ২০২৪ এ এসে রায় পর্যবেক্ষনে সব আসামি কে খালাস দেন হাইকোর্ট। যা নিয়ে নতুন করে হয় আলোচনা।
এদিকে দশট্রাক অস্ত্র মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন চট্টগ্রামের বিশেষ আদালত। ১০ বছর পর ২০২৪ এসে সে রায় বাতিল হল হাইকোর্টে।মুক্তি পেলেন বিএনপি জামায়াতে একাধিক আলোচিত নেতা।
এছাড়া, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে খালাস দেন উচ্চ আদালত। এছাড়া গ্যাটকো,বড় পুকুরিয়ার মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতিসহ মানহানি ও ক্রিমিনাল মামলা বাতিল হয়।
এদিকে, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য শেখ হাসিনা যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল গঠন করেছিলেন, সেখানেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁর বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের বিধান বাতিল করে, ফিরলো তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। আইনজীবীরা বলছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিচার বিভাগ হবে অন্যতম হাতিয়ার। যেখানে প্রতিফলন ঘটবে আইনের যথাযথ প্রয়োগের।
তবে ২০২৪ এর বিচার বিভাগ শুধু পরিবর্তন কিংবা সংস্কারের মধ্যেই ছিলো না।নতুনদের আগমনে যেমন ছিলো রঙ্গিন তেমনি সাবেকদের চলে যাওয়ায় ছিলো বিষন্ন। ২০২৪ এ পরপারে পাড়ি জমান সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি মো.রুহুল আমিন ও ফজলুল করিম।এ ছাড়া আরো চলে যান সাবেক অ্যার্টনি জেনারেল ও অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা হাসান আরিফ।
টিএ/


