জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরীক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের সংশোধনীতে বলা হয়েছে কোনো পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩ পেলে কোনো শিক্ষার্থী মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের এই সংশোধনীর ফলে কোনো কোনো শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য শিক্ষার্থীদের একটি বা দুইটি কোর্সে কম গ্রেড দিয়ে থাকেন। একটা বা দুইটা কোর্সে এমন হওয়াতে সামগ্রিক ফলাফল সিজিপিএ ৩ এর নিচে না থাকায় তারা আর মান উন্নয়ন দিতে পারে না। আবার বেশিরভাগ বিভাগেই খাতা একই বিভাগের শিক্ষকরাই নিরীক্ষণ করে থাকেন। এছাড়াও মৌখিক অভীক্ষাতেও শিক্ষকদের আক্রোশ মেটাতে তারা কোনো কোনো শিক্ষার্থীদের অত্যাধিক কম নাম্বার দিয়ে থাকেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় দেখা যায় অন্য কোর্সগুলোতে ভালো মার্কস পেলেও দু একটা কোর্সে কারণবশত মার্কস কম আসে যার কারণে সিজিপিএ কমে যায়। কিন্তু জাবির পরীক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের সংশোধনীতে বলা হয়েছে কোনো পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৩ পয়েন্ট পেলেই কোনো শিক্ষার্থীতে মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবে। আমি মনে করি এটা অযৌক্তিক,দু-একটা কোর্সের জন্য সিজিপিএ খারাপ হলে পরবর্তীতে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তাই মোট সিজিপিএ না দেখে বরং যে কোর্স খারাপ হয়েছে সেই কোর্সের মান উন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ দেয়া উচিত।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ড সালেহ আহমেদ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে নিতে হলে এসব বৈষম্যমূলক প্রথা অবশ্যই বাতিল করতে হবে। যেকোনো সময় যে কোনো শিক্ষার্থী তার মান উন্নয়ন দিতে পারবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের অনেক সহকর্মী এই কাজে আমাদের বাধা দিচ্ছে। তারা চাচ্ছে না এই নিয়ম করা হোক। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে গ্রহণ না করে অনেক বিভাগ নিজেদের মতো করে অধ্যাদেশ তৈরি করেছে। যা সুস্পষ্টভাবে নিয়মের লঙ্ঘন। ইতোমধ্যেই উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সহকর্মীদের চাপের মুখে মান উন্নয়নের জন্য আগত নিয়ম কতটা শিক্ষার্থীবান্ধব হবে তা আমি নিশ্চিত না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অধ্যাদেশের পাশাপাশি অনেক বিভাগের নিজস্ব অধ্যাদেশ রয়েছে। তারা সেগুলো বিভিন্ন সময়ে একাডেমিক কাউন্সিল থেকে পাশ করিয়ে নিয়েছে। আবার ফাইনাল পরীক্ষার খাতায় ২য় নিরীক্ষক হিসেবে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর কথা থাকলেও সময় বেশি লাগাসহ নানা অযুহাতে তা নিজ বিভাগেরই দ্বিতীয় নিরীক্ষক রাখা হচ্ছে বা কোনো বিভাগ সেমিস্টার করায় তারা একজন নিরীক্ষক দিয়েই খাতা দেখাচ্ছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের বিরুদ্ধ। তবে এই সকল অসঙ্গতি দূর করে একটি সঠিক সমাধানে আসার জন্য আমরা ইতোমধ্যেই দুইটি ভিন্ন ভিন্ন কমিটি করেছি। এর মধ্যে একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। আমরা দ্রুতই এসকল বিষয় একাডেমিক কাউন্সিলে তুলব।
এসময় পরীক্ষার উত্তরপত্রে নাম্বারের ক্ষেত্রে স্বজন প্রীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমনটা হয় বলে আমরা বিগত দিনেও দেখেছি। তবে এটারও সমাধান দরকার। একজন শিক্ষার্থী সে যে কোনো কোর্সে ৩ পয়েন্টের নিচে পেলে যাতে সেই কোর্সে মান উন্নয়ন দিতে পারে সে বিষয়েও আমরা চিন্তা ভাবনা করছি।’’ ফাইনাল পরীক্ষার খাতা কেনো দেখানো হয় না এবং টিউটোরিয়ালে ২৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ফাইনালে কিভাবে ২৪ পায় এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন অনেক বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকদের আপত্তির কারণেই সম্ভব হয় না শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর।
এনএ/


