ভারত গত সপ্তাহে মোটরসাইকেলের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে। ১৬০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনের হেভিওয়েট মোটরসাইকেলের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ছোট মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ওই শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
ভারতের বাজারে আমেরিকান হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেলের প্রবেশের বিষয়টাকে আরও মসৃণ করার জন্য এটা একটা আগাম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের মোটরসাইকেল রপ্তানি হয়েছিলট্রাম্প এর আগে ভারতের উচ্চ শুল্কনীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে, হার্লি ডেভিডসনের ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং ভারতকে ‘ট্যারিফ কিং’ ও “বাণিজ্য সম্পর্কের বড় অপব্যবহারকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০২৩ সালে ১৯ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাত হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
ভারতের সাম্প্রতিক শুল্ক হ্রাসের মধ্যে আরও রয়েছে কৃত্রিম ফ্লেভার এসেন্সের শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা, অ্যাকুয়াটিক ফিডের জন্য ফিশ হাইড্রোলাইসেটের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা এবং নির্দিষ্ট বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ পণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল করা। এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি যথাক্রমে ২ কোটি ১০ লাখ, ৩ কোটি ৫০ লাখ ও ২৫০ কোটি ডলার।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ভারতও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশেষ করে, কৃষিপণ্যের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ২০২৩ সালে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের আপেল, কাঠবাদাম, ছোলা, মসুর ডাল ও আখরোটের ওপর পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করলেও ট্রাম্প সম্ভবত আরও ছাড় চাইবেন। তবে কৃষিখাত ভারতের রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি ক্ষেত্র হওয়ায় নয়াদিল্লি কঠোর অবস্থান নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক এবং কোয়াড জোটের অংশীদার হিসেবে চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি বাণিজ্য উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের নমনীয় অবস্থানও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাশাপাশি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককের কারণেও কিছুটা সুবিধা মিলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে চলতি মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউস সফরে যাওয়ার পর এই বিষয়ে কিছুটা স্পষ্টতা আসবে।
পড়ুন:জাতিসংঘ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ
দেখুন:ট্রাম্পের হু/ম/কির পর ইরানের যু/দ্ধ প্রস্তুতি |
ইম/


