বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন ইউক্রেন শিগগিরই খনিজ চুক্তি মেনে নেবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইউক্রেন খুব দ্রুতই তাদের খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ করার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা তহবিলের কিছু ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রস্তাবিত খনিজ চুক্তি দুটি দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আশা করছি যে, পরবর্তী কিছু সময়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যার ফলে আমরা ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলার ফিরে পাবো। এটি একটি বড় চুক্তি, এবং ইউক্রেনও এটি চায়। এটি আমাদের সেই দেশে উপস্থিত রাখবে এবং আমাদের অর্থ ফেরত পেতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তিটি অনেক আগেই স্বাক্ষরিত হওয়া উচিত ছিল, তবে এখন এটি ঘটতে যাচ্ছে।”

এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইউক্রেনকে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে বিরল খনিজ সম্পদের চুক্তি প্রস্তাব করেছে। এই চুক্তিতে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, যেমন গ্রাফাইট, লিথিয়াম, টিটানিয়াম, বেরিলিয়াম এবং ইউরেনিয়াম, জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্বের বেশ কিছু বিরল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত এসব খনিজ সম্পদ। ইউক্রেনের ভূমি এ ধরনের সম্পদের সম্ভাবনাযুক্ত, এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদগুলো চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ চীনকে টেক্কা দিয়ে তাদের নিজেদের হাতে আসুক, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক এবং সামরিক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ও পশ্চিমা দেশগুলোর চোখ সেখানে।

খনিজ সম্পদগুলো যেমন বৈশ্বিক বাজারে খুবই মূল্যবান, তেমনি এই সম্পদগুলো আহরণ করাও অত্যন্ত কঠিন। সুতরাং, এই সম্পদের মালিকানা নিয়ে প্রতিযোগিতা একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

সংবাদমাধ্যম বলছে, খনিজ চুক্তি নিয়ে আলোচনাটি গত সপ্তাহে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে হওয়া তীব্র বাদানুবাদের পর এসেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্পের এমন কথার জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার প্রভাবিত “অপতথ্যের জগতে” বাস করছেন।

অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জেলেনস্কিকে “নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক” বলে অভিহিত করেন।

বিশ্বের ১৭ ধরনের বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে, আর ইউক্রেনের কাছে এসব খনিজের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ রয়েছে। ইউক্রেনের কাছ থেকে এই খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি শক্তিশালী চুক্তি জন্য কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য।

এখনকার পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ শুধু সামরিক পরিকল্পনার জন্য নয়, বরং বিশ্ব বাজারে তার অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্যও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পড়ুন : জাতিসংঘের বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান

দেখুন : রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক যু*দ্ধ হলে যা হবে! | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন