২৬/০২/২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
31.3 C
Dhaka
২৬/০২/২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কুয়েটের ৮০ শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকার পথে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর শিক্ষার্থীরা তাদের ৬ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ উপাচার্যকে অপসারণ এবং নতুন নিয়োগসহ অন্যান্য দাবির পক্ষে আন্দোলন করছেন। শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে শিক্ষার্থীরা দু’টি বাসে ৮০ জনের একটি দল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাদের মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ছিল এবং তারা নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, ক্যাম্পাসে বর্তমানে তাদের নিরাপত্তা একেবারেই নেই। তারা বলেন, “আমরা নিরাপত্তাহীন, এবং এজন্য আমাদের দাবি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করব।” তারা স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর নিরাপদ স্থানে চলে যাবেন এবং অনলাইনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যতদিন তাদের দাবি পূর্ণ না হয়, তারা ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।

তারা আরও বলেন, ঘটনার পাঁচ দিন পরেও সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তার আশ্বাস আসেনি। আমাদের নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর চাপাতি, রামদা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যা জুলাই বিপ্লবের পর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হামলা করতে কেউ সাহস করেনি । অথচ এই হামলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের মাথা ফেটে গেছে ,হাত তিন টুকরো হয়ে গেছে।

যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়েছে সেই সরকার আমাদের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্ত ঝরার পরও যোগাযোগ করেনি। সেই সরকারকে আমাদের রক্তের দায় নিতে হবে। ইমেইলের মাধ্যমে স্মারকলিপি পাঠানোর তিন দিন পার হয়েছে, কিন্তু সরকারের থেকে কোনো সাড়া পাইনি। এই ক্যাম্পাস আমাদের জন্য সেফ না। যেখানে হামলার পর সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সেখানে কুয়েটের নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া কেউ নেই। আমাদের নিরাপত্তা এখন আমরাই দিয়ে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে,

কিছু শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, যা তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। তাদের দাবি, হামলাকারীরা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হলেও, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর আগে, হামলার সময় অনেক গুরুতর আহত হয়েছিল, এবং হামলার পরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এরপর তারা বলেন, “সরকারের কাছ থেকে সহায়তার কোনো আশ্বাস আসেনি, এবং আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের একাধিক গুরুতর আহত হয়েছে, এবং এই হামলার ঘটনায় আমরা কোনো নিরাপত্তা পাচ্ছি না।”

শিক্ষার্থীরা বলেন, “এই ক্যাম্পাস আমাদের জন্য নিরাপদ নয়, এবং সেখানে কোনো সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা প্রদান করা হয়নি।” তারা আরও জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে যেসব শিক্ষার্থী থাকে, তাদের বাড়িওয়ালা হুমকি দিচ্ছেন এবং তারা আতঙ্কিত। তাদের দাবি, সরকারের উচিত এই ঘটনার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তারা আরও বলেন, “আমাদের অভিভাবক নেই, এবং আমরা এখন নিরাপত্তার জন্য নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছি।” তাদের মতে, “কুয়েট প্রশাসন এবং ভিসি-প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া না হলেও ছাত্রদল এখনও ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে চায়।”

এছাড়া, আন্দোলনরত চিঠির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের ৬ দফা দাবি পাঠিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এই আন্দোলন একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।

পড়ুন:ব্রাজিলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১২ বিশ্ববিদ্যালয় নিহত

দেখুন : নকল ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের যে ছবি ভাইরাল 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন