বিজ্ঞাপন

এখনও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি এনবিআরে

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সভাপতি শাহদাত হোসেন সোহেল বলেন, “ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং নানা ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।” তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে একাধিক ভয়েস মেসেজ পাঠানো হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতি এখনও বন্ধ হয়নি। শাহদাত হোসেন সোহেল বলেন, “আপনারা যদি ব্যবসায়ীদের সহায়তা করেন, তাহলে তারা আপনাদের যা চায়, তা দেবে।”

এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই অভিযোগের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “আপনাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আপনাদের যদি কিছু দেওয়ার থাকে, তাহলে সেটা আপনার কাছ থেকে নেওয়া হবে। আমি আপনাদের অনুরোধ করি, এই ধরনের লেনদেনের ভিডিও বা রেকর্ডিং তৈরি করুন। আমাদের কাছে শংসাপত্র থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যবস্থা নিতে পারে।” তিনি বলেন, “এনবিআর এর পক্ষ থেকে একটি অনলাইন সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন।”

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা এনবিআরকে সতর্ক করে বলেন যে, দুর্নীতি বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা আরও সমস্যায় পড়বেন।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল অভিযোগ করেন, “কয়েক দিন আগে পানগাঁওয়ে আমান প্লাস্টিকের দুটি কনটেইনার আটকে রাখা হয় এবং ৭ কোটি টাকা শুল্ক দাবি করা হয়। এই কারণে আমান প্লাস্টিকের মালিক আত্মহত্যার কথা চিন্তা করেছিলেন।”

এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, “আপনাদের অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা আমাদের কাছে জমা দিন। আমরা পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওতে ধারণ করতে পারি, মোবাইলেও কথোপকথন রেকর্ড করা সম্ভব।”

বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন বাজেটে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএম) ২০৩০ সাল পর্যন্ত করপোরেট কর হার ১৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। তারা ভারতের সুতার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানান এবং এ জন্য কর হার কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এনবিআরের চেয়ারম্যান এসব দাবি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “কিছু কিছু কোম্পানি যদি লাভ না করে, তাহলে কর দিতে হবে না, তবে করের হার কমানোর ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।”

বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) সরকারের নীতি সহায়তা চায়। তারা রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর অর্ধেক কমানোর প্রস্তাব করেছে। এছাড়া বেসিস তথ্য প্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতি ২০৩১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে এবং দেশি সফটওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তির ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দিয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল এলপিজি অটোগ্যাস সেক্টরের জন্য ট্যাক্স হলিডে সুবিধা চাওয়ার প্রস্তাব। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং অটোগ্যাসের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সংযোজিত মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সবশেষে, ব্যবসায়ীদের একটি বড় দাবি ছিল বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নগদ সহায়তায় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার। তারা মনে করেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যবসায়ীরা আরও উন্নতি করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

এই আলোচনা সরকারের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর বাজেট প্রণয়ন করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

পড়ুন: পাঁচবিবিতে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দেখুন: সরকার আবার দুর্নীতি করতেই পাতাল মেট্রোরেল করছে’ | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন