ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ গাজা থেকে নেতজারিম করিডোর পুনরায় দখল করেছে, যা গাজার উত্তরের সাথে দক্ষিণের মধ্যে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করবে। সামরিক বাহিনীর দাবি,কেন্দ্র এবং দক্ষিণে অভিযান চালিয়ে এই করিডোরটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা এলাকা সম্প্রসারণ এবং যুদ্ধের জন্য একটি বাফার জোন তৈরি করা যায়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েল এই করিডোর থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেছিল, কিন্তু এখন এটি ফের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর এই পদক্ষেপের ফলে গাজার মানুষের জন্য চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, নেতজারিম করিডোর পুনর্দখলের কারণে গাজার ভেতরে ফিলিস্তিনিদের অবাধ চলাচল ব্যাহত হবে। ইসরায়েলি বাহিনী এই অঞ্চলে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে, এটি একটি নতুন স্থল অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের আগে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে মঙ্গলবার একদিনেই ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বাসিন্দাদের জন্য এক ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করেছেন, যেখানে তিনি বলেন, বাসিন্দাদের উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শ অনুসরণ করা এবং হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ‘এটি শেষ সতর্কবার্তা, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
ইসরায়েলের বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৫৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮৩ জন শিশু রয়েছে। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর, ইসরায়েল অবরুদ্ধ ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যায়, যা দেশটির সরকারের ঘোষণার পরপরই শুরু হয়। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস নতুন যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রত্যাখ্যান করায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
হামাসের একজন কর্মকর্তা তাহের আল-নোনো জানান, তারা এখনো স্বাক্ষরিত চুক্তিতে অটল আছেন এবং নতুন কোন চুক্তির প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘যেহেতু একটি চুক্তি রয়েছে, সেহেতু নতুন চুক্তি আনার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছি, কিন্তু নেতানিয়াহু তা বাতিল করেছেন, এবং এর দায় তাকেই নিতে হবে।’
ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বাড়ানোর কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। একদিকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী বন্দি মুক্তির দাবি করছে, অন্যদিকে হামাস বলছে, তারা শুধু পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বিশ্বাস রাখছে, নতুন শর্তে তাদের কিছু করার নেই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি হামাস তাদের দাবিতে সাড়া না দেয়, তবে ইসরায়েল এমন আক্রমণ চালাবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, বাসিন্দারা আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। ৫১ দিনের যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের নতুন হামলা এবং দখলদার বাহিনীর কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আগামী দিনগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি থাকবে এই সংকটের দিকে, যাতে কোনোরকম শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো যায়।
পড়ুন: ইসরায়েল আবার পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছে : নেতানিয়াহু
দেখুন: ছিল বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ |
ইম/


