দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১৯ জন। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভয়াবহ এই দাবানলের মধ্যে ২৩,০০০ এরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু এই দাবানলকে “ভয়ংকর” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।
বুধবার দুপুরের দিকে, উইসিয়ং কাউন্টির পাহাড়ে একটি অগ্নিনির্বাপক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫,০০০ সামরিক সদস্যসহ হাজার হাজার দমকলকর্মী কাজ করছে, এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারও আগুন নেভাতে সহায়তা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবানল সাধারণত বিরল, কিন্তু চলমান এই দাবানলটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২৭ মার্চের মধ্যে, প্রায় ১৭,০০০ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, যা আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দাবানল। দাবানলের কারণে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১,৩০০ বছরের পুরনো গউনসা বৌদ্ধ মন্দির সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া, জোসন রাজবংশের (১৩৯২-১৯১০) সময়ের একটি জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষিত স্থাপত্যও দাবানলে পুড়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু জানিয়েছেন, “সব ধরনের মানবসম্পদ ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে, তবে প্রবল বাতাস দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।” তিনি আরও জানান, “আমরা মরিয়া হয়ে বৃষ্টির অপেক্ষা করছি, যা আগুন নেভাতে সহায়ক হতে পারে।” তবে কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই এবং বৃহস্পতিবার মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দাবানলের কারণে ২৩,০০০ মানুষের বাসস্থান বিপন্ন হয়েছে। দাবানলের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কারাগারের বন্দিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বর্তমানে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপন হেলিকপ্টার ও ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বন বিভাগের মুখপাত্র কিম জং-গুন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার নেই, তাই আরও হেলিকপ্টার আনা হবে। ৪৯১৯ জন দমকল কর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং তাদের সহায়তায় ৮৭টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত ৩৭,৬৫ একর এলাকা পুড়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে ‘বিশেষ দুর্যোগপূর্ণ এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভয়াবহ দাবানল কোরিয়ার ইতিহাসে এক বিপর্যয়কর মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মানবহানির ঘটনা অত্যন্ত মারাত্মক।
পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার
দেখুন: কোরিয়ায় চাকরি ও ব্যবসায় এগিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীরা |
ইম/


