28.5 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৮:৫৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কানাডার নির্বাচনে ভারতের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

কানাডার ২০২২ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভরের পক্ষে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে এসেছে। গ্লোব অ্যান্ড মেইল সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় এজেন্টরা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পোইলিভরের পক্ষে তহবিল সংগ্রহ এবং সংগঠনে জড়িত ছিল। তবে, প্রতিবেদনটি আরও স্পষ্ট করেছে যে পোইলিভর বা তার দল এ বিষয়ে অবগত ছিল এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এই অভিযোগটি ২৮শে এপ্রিল অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের প্রচারের মধ্যে উঠেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কানাডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা (সিএসআইএস) জানিয়েছে যে তারা ভারতের কথিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে পোইলিভরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেননি, কারণ তিনি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাননি। পোইলিভর নিজেও জানিয়েছেন যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তিনি কোনো গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করতে চান না যা লিবারেল সরকার তাকে চাপিয়ে দিতে চায়।

এদিকে, লিবারেল নেতা মার্ক কার্নি কনজারভেটিভ নেতা পোইলিভরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “একজন বিরোধীদলীয় নেতা দিনের পর দিন নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে অস্বীকৃতি জানানো সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন।” তবে পোইলিভর তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং বলেন যে তিনি জনগণের স্বার্থে স্বাধীনভাবে কথা বলতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কানাডার নির্বাচনী অখণ্ডতা টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে,

চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় চীন, রাশিয়া এবং ভারতের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশী এজেন্টরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রক্সি এবং অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করতে পারে।

এছাড়া, কানাডীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএসের উপপরিচালক ভেনেসা লয়েড জানান, ভারত, চীন, রাশিয়া এবং পাকিস্তান একযোগে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার মতো অভিপ্রায় এবং ক্ষমতা ভারতেরও রয়েছে বলে আমাদের নজরে এসেছে।”

কানাডার সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিএসআইএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের বিদেশী হস্তক্ষেপগণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক হতে পারে এবং এই কারণে সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিকল্পনা করছে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভারতীয় হস্তক্ষেপের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমরা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছি।” তিনি আরও বলেন, “কোনো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা ভারতের নীতি নয়।”

তবে, কানাডার গোয়েন্দাদের এই অভিযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার প্রতিক্রিয়া কানাডা-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ভারত ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলার পর, এখন কানাডার নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপের অভিযোগ আরও নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে, ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য কানাডার সাধারণ নির্বাচনে বিদেশী হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।

পড়ুন: কানাডার ৪৫তম ফেডারেল নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু

দেখুন: এক লটারি জিতেই ৩৮৪ কোটি টাকার মালিক! 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন