বিজ্ঞাপন

মার্কিন শুল্কের ধাক্কায় অনেক দেশের পুঁজিবাজারে ধস

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আমেরিকার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের পর বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, আর মার্কিন ডলার ছয় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প যখন শুল্ক ঘোষণা দেন, তখনই এই অস্থিরতা শুরু হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ব পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

বৃহস্পতিবার (০৩) ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলো নিম্নমুখী অবস্থায় দিনশুরু করে, এর আগে এশিয়ায় বড় ধরনের দরপতন হয়, আর ওয়াল স্ট্রিটেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

লন্ডনের এফটিএসই হান্ড্রেড সূচক ১.৩% কমে যায়, জার্মানির ডিএএক্স ১.৬% এবং ফ্রান্সের সিএসি ১.৮% হ্রাস পায়।

এশিয়ার বাজারেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন জাপানের ওপর ২৪% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লাগে। যার ফলে নিক্কাই সূচক ৩.৩% এবং টপিক্স সূচক ৩.৫% কমে যায়।

হংকংয়ের হ্যাং স্যাং সূচক ১.৯% হ্রাস পায়, আর ভিয়েতনামের শেয়ারবাজার—যেখানে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে— ৬.৭% নিচে নেমে যায়।

মার্কিন শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ প্রবণতাও আশঙ্কাজনক। ডো-জোন্স ফিউচার ২.১% কমেছে, এসএন্ডপি ৫০০ ফিউচার ৩% নিচে নেমেছে।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রযুক্তিখাত। নাসডাক ফিউচার ৩.৫% কমে গেছে, যেখানে অ্যাপল—যার ব্যবসার একটি বড় অংশ চীনের ওপর নির্ভরশীল—৭% দর হারিয়েছে। নাইকি ৭.৩% নিচে নেমেছে, এনভিডিয়া ৫.৬% কমেছে, আর টেসলা ৮% দর হারিয়েছে।

বিজ্ঞাপন


মুদ্রাবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ডলার ১.১% হ্রাস পেয়েছে, আর ব্রিটিশ পাউন্ড ০.৯% বেড়ে ১.৩১ ডলারে পৌঁছেছে।

জেনাস হেন্ডার্সন ইনভেস্টরস-এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার অ্যাডাম হেটস মনে করছেন, বাজারের এই অস্থিরতা সহসাই কমবে না।

তিনি বলেন, শুল্ক আরোপের এই মাত্রা হয়তো আলোচনার কৌশল হতে পারে, কিন্তু এতে বাজার আরও বেশি চাপের মধ্যে থাকবে। ইতিবাচক দিক হলো, এখান থেকে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ রয়েছে, যদিও ১০% বেসলাইন শুল্ক থেকেই যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি যে ট্রাম্প প্রশাসন বাজারের অস্থিরতা নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না। তবে প্রশ্ন হলো, অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বাড়লে তারা কতটা ধৈর্য ধরতে পারবে?

শুল্কের এই ধাক্কায় তেলের বাজারও চাপে পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৩.৩% কমে ৭২.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ব্যাপক শুল্ক আরোপ বিশ্বব্যাপী মন্দা ডেকে আনতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দেবে।

এদিকে, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। স্বর্ণের দাম রাতারাতি রেকর্ড আউন্স প্রতি ৩১৬৭.৫০ ডলারে পৌঁছে গেছে।

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন