২৮/০২/২০২৬, ১৪:১৪ অপরাহ্ণ
30.6 C
Dhaka
২৮/০২/২০২৬, ১৪:১৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মার্কিন শুল্কহার কমাতে তৎপর সরকার

বাংলাদেশের পণ্যের ওপরও বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে তৎপরতা শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দেশটির বাজারে পণ্য রপ্তানিকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তবে ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার ছুটির মধ্যেই অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা, অর্থ ও বাণিজ্যসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ শনিবারও এ বিষয়ে প্রাক্‌-প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করবেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের এ তৎপরতা বাস্তবে দৃশ্যমান হবে আগামীকাল রোববার।

সাধারণ মানুষের পকেট কাটার নতুন ফন্দি!
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন শুল্কহার কমাতে তৎপর সরকার

দীর্ঘ ছুটি শেষে আগামীকাল অফিস খুলবে। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের কর্মতৎপরতার মূল ফোকাসই হবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ করা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানাতে আগামীকাল বেলা ১১টায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এজন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ‘আমাদের কাজটি আগে করতে দিন। আলোচনায় বসি। সময় হলেই অগ্রগতি জানতে পারবেন।’

এদিকে মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে তৎপর হয়ে উঠেছে এনবিআরও। ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে এনবিআরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে আমদানি হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যতালিকা এবং তার ওপর বাংলাদেশের ধার্য করা শুল্কহার পর্যালোচনা করা হবে। সেই সঙ্গে মার্কিন পণ্যের আমদানি শুল্ক থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর কী পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার পরিমাণ বের করারও চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আলোকিত শুল্কহার প্রত্যাহার বা সহনীয় পর্যায়ের নামিয়ে আনতে মার্কিন কোন কোন পণ্যে শুল্কহার হ্রাস করা যায়, সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী সরকার তার নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘বিষয়টি জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহার কমিয়ে আনতে করণীয় সবকিছুই করবে এনবিআর। এ জন্য আগে বাংলাদেশে মার্কিন পণ্যের ডেটা পর্যালোচনা করা দরকার। আমরা রোববারই তা করার চেষ্টা করব। এতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় যদি বাংলাদেশের মার্কিন পণ্যের ট্যারিফ কমাতে হয়, আমরা তা করব।’

মার্কিন বাজারে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে থেকেই ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য আছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় বাড়তি ৩৭ শতাংশ যুক্ত হওয়ায় দেশটিতে বাংলাদেশির পণ্য প্রবেশে মোট ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে, যা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে আছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা।

এ বিষয়ে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ইতিমধ্যে উদ্যোক্তাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমরা সরকারের বিভিন্ন মহলে অলিখিতভাবে জানিয়েছি। তবে এ সংকট উত্তরণে কোথায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা আমাদের একটি লিখিত প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাব। এ লক্ষ্যে রোববারই আমরা সাংগঠনিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করব। প্রয়োজন হলে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছেও যাব। একটা সুন্দর উপায় তো বের করতে হবে। তবে সেটি কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সরকারের দর-কষাকষির ওপর।

দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক বৃদ্ধিতে তোলপাড়: কোথায় যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন