গাজায় ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর অবরোধ এবং বিমান হামলার পরিণতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপত্যকার জনজীবন। গাজার ২০ থেকে ২২ লাখ বাসিন্দার জন্য এখন কোনো বের হওয়ার পথ নেই, এবং খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, অবিরত বিমান হামলা এবং ভূমিতে ইসরায়েলের সেনাদের হামলার ফলে অসংখ্য গাজাবাসী প্রাণ হারাচ্ছেন, আর যারা আহত হচ্ছেন, তারা হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে গাজার শিশুদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। খাদ্য সংকটে ওষ্ঠাগত শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এবং অজ্ঞাত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, অন্তত ৬ লাখ শিশু পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং পোলিও টিকার অভাবে উপত্যকার অর্ধেক শিশু আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসা সরবরাহের অভাবে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না, এবং গাজার একাধিক হাসপাতালও হামলার শিকার হয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, যার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলার ফলে ৫১ হাজার ২৬৬ জন নিহত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি, ইসরায়েলি বাহিনী আরও ২৬ জনকে হত্যা করেছে এবং ৬০ জনকে আহত করেছে। এছাড়া, ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এদিকে, ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলন করে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া মাহমুদ খলিল সন্তানের জন্মকালেও তাকে জামিন দেয়া হয়নি। যুদ্ধের এই পরিস্থিতির মধ্যে, গাজার জন্য নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে মিসর এবং কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে এসেছে। এই প্রস্তাবে গাজার সমস্ত ইসরায়েলি সেনার প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েল এই প্রস্তাবের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে, অবরোধ চলতে থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে পোলিও টিকা প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ শিশু স্থায়ী পক্ষাঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করেছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের দিকে দেশটিকে ঠেলে দিতে পারে।
পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত
দেখুন: আর্জেন্টিনাসহ যেসব দেশে গাঁজা সেবন বৈধ |
ইম/


