টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলো জিম্বাবুয়ে। প্রথম সেশনে দুটি উইকেট হারালেও দ্বিতীয় সেশনে কোনো অঘটন ঘটতে দেননি উইলিয়ামস এবং ওয়েলচ। দুজনে মিলে খেলেন পুরো সেশন। চট্টগ্রামে এদিন বড় স্কোরের দিকেই এগোচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে ব্রেক থ্রো-টা এনে দেন নাঈম হাসান। দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় ক্রেইগ আরভিনকে সাজঘরে ফেরান তিনি। স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই উইলিয়াসমকে ফেরত পাঠান এই স্পিনার। তারপর শুরু হয় তাইজুল ম্যাজিক। শেষ বিকেলে একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। আর তাতেই স্বস্তি নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে বাংলাদেশ। দিন শেষে জিম্বাবুয়ের রান ৯ উইকেটে ২২৭ রান।
দলীয় স্কোর তখন ২ উইকেটে ৭২ রান। এরপর উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ওয়েলচ। দুজনে মিলে যোগ করেন ৯০ রান। দলীয় স্কোর ৭২ থেকে এই জুটি টেনে নিয়ে যান ১৭৭ পর্যন্ত। এই দুজনের ব্যাটে আভাস মিলছিলো বড় স্কোরের। তবে ১৭৭ রানের মাথায় নাঈম হাসানের ব্রেক থ্রোতে ছন্দ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
স্কোরবোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই নাঈম হাসানের আরও একটা আঘাত। এবার তার শিকার উইলিয়ামস। এরপর শেষ বিকেলে শুরু হয় তাইজুল ম্যাজিক। একে একে সাজঘরে ফেরান মাধেভেরে, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, রিচার্ড এনগারাভা ও নিক ওয়েলচকে। ৩৯ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ৪১ রান। দিনের প্রথম উইকেটটা তুলে নেন তানজিম হাসান সাকিব। ৩৩ বলে ২১ রান করা ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান তিনি।

চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান চৌধুরী স্টেডিয়ামে সকাল থেকেই দাপট ছিল জিম্বাবুয়ে ব্যাটারদের। মাঝে ব্রায়ান বেনেটকে অভিষিক্ত তানজিম হাসান সাকিব এবং বেন কারেনকে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। সাফল্যের গল্পটা অবশ্য থেমেছে সেখানেই। এর আগে পরে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ শাসনই করেছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা।
শন উইলিয়ামস যখন ক্রিজে আসেন দলের স্কোর ২ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। এরপরেই নিক ওয়েলসকে নিয়ে শন উইলিয়ামসের প্রতিরোধ শুরু। দুজন মিলে রান তুলেছেন ৩ এর কাছাকাছি রানরেটে। উইলিয়ামস আর ওয়েলস দুজনের ব্যাটেই আছে ফিফটি। আর জুটি গড়েছেন ৮৯ রানের। সেটাই ঠাঁই করেছে দ্বিপাক্ষিক রেকর্ডের তালিকায়।
এই নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে তৃতীয় উইকেট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন এই দুজনে। আর বাংলাদেশের মাটিতে ৩য় উইকেট বিবেচনায় এটাই সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। এর আগে বাংলাদেশে জিম্বাবুয়ে ৩য় উইকেটে তুলেছিল সর্বোচ্চ ৬৭ রান। ২০১৪ সালে খুলনা টেস্টে ব্রেন্ডন টেইলর এবং হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ব্যাট থেকে আসে এই জুটি।
এমনকি তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ জুটিও এসেছিল এই দুজনের ব্যাট থেকেই। ২০১১ সালে হারারে টেস্টে এই দুই ব্যাটার তুলেছিলেন ১৪২ রান।
এর আগে লাঞ্চের আগে জিম্বাবুয়ের কেবল দুই উইকেট তুলে নিতে পেরেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। তানজিম হাসান সাকিব এবং তাইজুল ইসলাম ফেরান দুই ওপেনারকে। যদিও এর বিপরীতে জিম্বাবুয়ের স্কোরকার্ডও নেহাত মন্দ ছিল না। চট্টগ্রামের মাঠে সকাল থেকে বেশ দারুণভাবেই বাংলাদেশের বোলিংকে সামলেছেন বেনেট-বেন কারেন জুটি। দুজনে রান তুলেছেন ওভারপ্রতি ৪ করে। তানজিম সাকিবের অফসাইডের বাইরে থাকা বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বেনেট। ততক্ষণে এই জুটি থেকে আসে ৪১ রান।
দলীয় ৭২ রানে অবশ্য বাংলাদেশ তুলে নেয় ২য় উইকেট। এই দফায় তাইজুল ইসলাম ফেরান বেন কারেনকে। ৫০ বলে ২১ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। মাঝে নিক ওয়েলস একবার জীবন পেয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজের বলে। এরপর থেকে অবশ্য আর কোনো সুযোগ বাংলাদেশের বোলারদের দেননি দুই জিম্বাবুয়ান ব্যাটার ওয়েলস ও উইলিয়ামস।


