১৫/০১/২০২৬, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল এখনো অরক্ষিত উপকূলবাসী

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে মহা প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ‘ম্যারি এ্যান’ এর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলা। এই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়িসহ জেলার উপকূলীয় আরো কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। এই অঞ্চলে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে সরকারি নথিতে রয়েছে। সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর বেদনার দিবস হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন


সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের নথি মতে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের দিবাগত মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী ও রবগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এতে উপকুলীয় ১৯ জেলার ১০২ থানা ও ৯টি পৌরসভায় সরকারী হিসাব মতে, নিহত হয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন লোক। নিখোঁজ ছিল ১২ হাজার ১২৫ জন। আহত হয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪ জন। গৃহহারা হয়েছিলো প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ। তবে বেসরকারি হিসেবে এর দ্বিগুণ। এমনও রয়েছে যারা পুরো পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে এ নিষ্ঠুর ঘূর্ণিঝড়ে! বিধ্বস্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ও বহির্নোঙ্গরে থাকা বিপুল সংখ্যক দেশী-বিদেশী জাহাজ।


সে ভয়াল রাতের স্মৃতি মনে পড়লে উপকূলবাসী এখনো আঁতকে উঠে। উপকূলের মানুষগুলো তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে এখনো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ৩৪ বছর পরও অতীতের স্বজন হারানো বেদনা আর বাস্তুভিটা হারানো স্মৃতি মুছে ফেলতে পারেনি উপকুলবাসী। ২৯ এপ্রিলের এই দিনটি এলে উপকূলের ঘরে ঘরে এখনো শোনা যায় আপনজন হারানোর কান্নার রোল।
সাগরের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেই ঘূর্ণিঝড়ে অস্বাভাবিক আকারে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। কিন্তু সেই মহা প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের ৩৪ বছর পার হলেও এখনো অরক্ষিত রয়েছে গেছে কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও বাঁশখালী। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ উপকূল রক্ষার কোনো ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এতে এখনো প্রতিনিয়ত সাগরের সাথে যুদ্ধ করে প্রাণ হাতে নিয়ে জীবন যাপন করছেন এই অঞ্চলের অন্তত ১৫ লাখ উপকূলবাসী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা আরো বেড়েছে।


উপকূলীয় এলাকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ গড়ে না ওঠায় সম্ভাব্য দূর্যোগ পরিস্থিতিতে জীবনের ভয়ে আঁতকে ওঠেন। কুতুবদিয়া উপজেলার চারিদিকে টেকসই বেড়িবাঁেধর জন্য এখানো আন্দোলন করতে হচ্ছে।

পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টা কাতার যাচ্ছেন ২১ এপ্রিল, সঙ্গী হচ্ছেন যারা

দেখুন: একনজরে বিশ্বের আলোচিত সব খবর

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন