ছুটি বা পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে তিনি থানায় অনুপস্থিত। সহকর্মীরা মনে করছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার মামলায় মাসুদুর রহমান ২৭ নম্বর আসামি।
নিহতরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আবদুল মান্নান, মিজানুর রহমান, তানজিল মাহমুদ সুজয়, আস-সাবুর ও বায়েজিদ। অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়া থানার সামনেই পুলিশের ভ্যানে তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় শহীদ সজলের মা শাহীনা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়। মাসুদুর রহমান ঘটনার সময় আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে বদলি করে শরীয়তপুরে আনা হয়। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জেলা পুলিশে যোগ দেন এবং ১২ ডিসেম্বর পালং মডেল থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) পদে নিয়োগ পান। গেল সোমবার মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকায় ২ নম্বরে থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর গ্রেপ্তারি শঙ্কায় মাসুদুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান।
সরেজমিনে বুধবার (৩০ এপ্রিল) পালং মডেল থানায় গিয়ে দেখা যায়, মাসুদুর রহমানের কক্ষ তালাবদ্ধ। সরকারি মোবাইল নম্বরটি বন্ধ এবং ব্যক্তিগত নম্বরেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, মাসুদুর রহমান ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থানায় ছিলেন না। সহকর্মীদের জানান, তার মা অসুস্থ জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাচ্ছেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তার মোবাইল নম্বরটি ব্যস্ত থাকে। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোন মামলার নথি বা নির্দেশনা পুলিশ হেডকোয়ার্টার কিংবা আদালত থেকে আমাদের কাছে আসেনি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

