২৭/০২/২০২৬, ২৩:৫২ অপরাহ্ণ
21 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ২৩:৫২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খন্দকার নবীউর রহমান পিপলু: যুদ্ধের ময়দান থেকে সত্যের সন্ধানে

১৯৫৭ সালের ১০ জানুয়ারি, বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন খন্দকার নবীউর রহমান পিপলু। পিতার নাম খন্দকার রশিদুর রহমান। কৈশোর থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এই সাহসী মানুষটি বড় হয়েছেন আদর্শিক মাটিতে। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে নাটোর পৌরসভার আলাইপুর মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন


তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় যুক্ত বাংলাদেশের সূচনায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। পরে বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক গেজেটে (নম্বর: ১৩৬৯) একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া জাতির কাছে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি।


স্বাধীনতা অর্জনের পরই থেমে যাননি। দেশ গড়ার আরেক লড়াইয়ে নামেন তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে। নব্বই দশকের শেষভাগে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদনীবাজার পত্রিকায় কাজের মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। এর পর দেশের নানা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেন। তাঁর লেখনিতে থাকত স্পষ্টতা, সত্যনিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
২০০৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় দৈনিক সমকাল-এর নাটোর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একইসাথে তিনি একুশে টেলিভিশনের নাটোর জেলা প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সত্য খুঁজতে গিয়ে কখনো আপস করেননি যুদ্ধের ময়দানে যেমন ছিলেন সাহসী, সংবাদ জগতেও ছিলেন নির্ভীক।


জীবনের শেষ অধ্যায়েও তার যুদ্ধ থেমে থাকেনি। তবে সে ছিল এক নিঃশব্দ লড়াই, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। বøাড ক্যান্সার এবং বোনম্যারো জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে। অবশেষে মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাড্ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাগনির স্বামী সামিউল ইসলাম সামি। তিনি বলেন, “মামা সন্তান না থাকলেও আমাদের তিনি সন্তান বলেই দেখতেন। আমরা ছিলাম তাঁর ছায়াসঙ্গী। তাঁর মরদেহ আজই গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে, সেখানেই দাফন করা হবে। তাঁর জানাযা নামাজ মঙ্গলবার বাদ মাগরিব নাটোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ- কাচারী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে”।


নবীউর রহমান পিপলু ছিলেন চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। পেছনে রেখে গেছেন এক স্ত্রী ও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। নিজের সন্তানের অভাব পূরণ করেছেন আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের মানুষের প্রতি পিতৃত্ব দিয়ে।


খন্দকার নবীউর রহমান পিপলুর জীবন কেবল একজন মানুষের গল্প নয়,এটি একটি সময়ের ইতিহাস, এক সাহসিক ও নীতির প্রতীক। যুদ্ধের ময়দানে, কিংবা কলমের জগতে তিনি ছিলেন অনড় এক যোদ্ধা। তাঁর মতো মানুষেরা থেকেই জাতি শিখে দেশপ্রেম, শিখে দায়বদ্ধতা।


নাটোরের এনটিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হালিম খান বলেন,“নবীউর রহমান পিপলু সাংবাদিকতা করতেন মনপ্রাণ দিয়ে। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান। কাজের ক্ষেত্রে কখনোই অবহেলা করেননি। প্রায় ৩৫ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি সততার সঙ্গে মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নাটোরে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম যার অভাব বহুদিন অনুভব করবে পুরো সাংবাদিক সমাজ।

পড়ুন: মাগুরার নোমানী ময়দানে সেই শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত

দেখুন: স্টেডিয়ামে দুর্ঘটনা: যুগে যুগে বহু বিপর্যয়ের সাক্ষী ফুটবল ময়দান |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন