একের পর এক আক্রমণ করলেও সাফল্যের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। শেষমেশ ৭৪ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আশিকুর রহমান। ৬ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সাল। শেষদিকে একটি গোল হজম করলেও ততক্ষণে ফল চলে যায় লাল সবুজদের পক্ষে। তাতে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিলো ছোটনের শিষ্যরা।
ভারতের অরুনাচল প্রদেশে শুক্রবার (১৬ মে) সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধে সমানতালে লড়াই চালায় দুদল। তবে চীনের প্রাচীর হয়ে দুদলের গোলরক্ষক-ই অক্ষত রাখেন জাল। দ্বিতীয়ার্ধেও সমানতালে চলতে থাকে দুদলের আক্রমণ। শেষমেশ ৭৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আশিকুর। ডান কর্নার থেকে ফয়সালের ক্রস দূরের পোস্ট থেকে হেডে জালে জড়ান লাল সবুজদের ডিফেন্ডার।

এরপর দ্বিতীয় সাফল্য পেতেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ছোটনের শিষ্যদের। ৮১তম মিনিটে বক্সের ডানপ্রান্তে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ফয়সালকে পাস দেন মোহাম্দ মানিক। বাকিটা অনায়াসে সেরে নেন লাল সবুজদের অধিনায়ক।
জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে বাংলাদেশের যুবারা। তাতে চেপে ধরে নেপালও। ৮৬তম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা। তবে এগিয়ে এসে তাদের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন মাহিন। তবে পরের মিনিটে জাল অক্ষত রাখতে পারেননি তিনি। বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন সুজন ডাঙ্গল।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেকটি গোল আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে ফয়সালের পাস ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারেননি সালাহউদ্দিন সাহেদ। তার শট সরাসরি চলে যায় নেপাল গোলরক্ষকের হাতে। খানিকবাদে বক্সে বল পেয়েছিলেন ফয়সাল। তবে নেপালের তিন ডিফেন্ডারের বাধায় শট নিতে পারেননি তিনি। যোগ করা সাত মিনিটের পুরোটা সময় আক্রমণাত্মক খেললেও আর গোলের দেখা পায়নি নেপালের যুবারা। তাতে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে ফাইনাল নিশ্চিত করে নিলো লাল সবুজরা।
আজ রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও মালদ্বীপ। এ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ১৮ মে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ফয়সালরা।


