রাজধানীর ভাটারা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন আক্তার এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য আগামী ২২ মে ধার্য করেন। অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তারের পর শোবিজ তারকারা সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শুধু শোবিজ তারকারাই নন নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকরাও। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এক ভয়ংকর সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুকে তার বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি ব্যাখ্যা করতে পারবে কেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল? তার অপরাধ কী ছিল? শুধুমাত্র ‘মুজিব’ বায়োপিকে শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করার কারণে? এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এই ধারণা তৈরি করছে যে বাংলাদেশ ২.০-তে যে কেউ গ্রেপ্তার হতে পারে, যদি ক্ষমতাসীনরা মনে করে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি শেখ হাসিনার আগের সরকারের চেয়ে বড় কর্তৃত্ববাদী সরকার হয়ে উঠছে? যা দেখা যাচ্ছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের মতোই প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং তুচ্ছ বলে মনে হচ্ছে, যখন তাদের ঐক্যবদ্ধ এবং পুনর্মিলনকারী শক্তি হওয়ার কথা ছিল।
সায়ের শেষ পর্যন্ত দাবি করেন, ফারিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তার হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটি অগ্রহণযোগ্য। কোনো ‘যদি’, ‘কিন্তু’ নেই।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার গভীর উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকার এখন নৈতিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় হিমশিম খাচ্ছে। আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থক হওয়া কিংবা দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকটাই কাউকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশে এমন ব্যক্তিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। কারণ, ভিত্তিহীন অভিযোগে যেকোনো সময় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা বাস্তব হয়ে উঠেছে। দেশের নতুন তথাকথিত ‘সিভিল সোসাইটি’ এখন আর সুবিচার বা ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে মাথা ঘামায় না, তারা প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাবেই ব্যস্ত।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, এটি ন্যায়বিচার নয়। দায়বদ্ধতার পোশাক পরে হাজির হওয়া প্রতিশোধ। এটি আইনের শাসনে বিশ্বাসী যেকোনো মানুষের জন্যই ভয়াবহ সংকেত, তারা যে আদর্শেই বিশ্বাস করুক না কেন।
পড়ুন : ফারিয়ার গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ


