০১/০৩/২০২৬, ১৮:১৬ অপরাহ্ণ
29 C
Dhaka
০১/০৩/২০২৬, ১৮:১৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু : সহকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, তদন্তে সিআইডি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ইমিগ্রেশন ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল শামিম রেজা সাজুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সাত সহকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার এক মাস পর নিহতের বাবা আদালতে মামলাটি করলে, বিচারক তা আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (২০ মে) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা হাসেম আলী ফরাজী বাদী হয়ে দর্শনা থানা আমলি আদালতে এ মামলাটি করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান লাভলু জানান, আদালতে দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করে বিচারক সিআইডিকে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কনস্টেবল শামিম রেজা সাজু চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ১৮ এপ্রিল সকালে চেকপোস্ট ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়।

তবে ঘটনার এক মাস পর নিহত শামিমের বাবা সন্দেহজনক মৃত্যুর পেছনে সহকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করে আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তারেক মাহমুদ, লাভলুর রহমান, মিঠুন হোসেন, সহিদুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, ইমিগ্রেশন ইনচার্জ এসআই রমজান আলী এবং কনস্টেবল সোহেল রানাকে।

বাদীর দাবি, তার ছেলে শামিম বিবাহিত এবং তার পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং শামিম কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা ছিল না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দর্শনায় বদলির পর থেকেই শামিম রেজা বৈষম্যের শিকার ছিলেন। ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিরা নানা অজুহাতে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখতেন, গালিগালাজ করতেন এবং একাধিকবার হত্যার হুমকি দেন।

১৭ এপ্রিল কনস্টেবল শামিম রেজা তার গ্রামেরই এক সহকর্মী (৭ নম্বর আসামি) কনস্টেবল সোহেল রানাকে এসব হুমকির বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে জানান। কিন্তু সোহেল রানা বিষয়টি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে উল্টো তা অন্য আসামিদের জানিয়ে দেন।

বাদীর ভাষ্যমতে, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা ১৭ এপ্রিল রাত পৌনে ১১টার পর যেকোনো সময় শামিমকে হত্যা করে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।

মামলার এজাহারে শামিমের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বাদী হাসেম আলী ফরাজী।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন: জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এক পরিবারের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন