টেইসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে ঝিনাইদহে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ৬ষ্ট পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া আক্তার চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু হুরায়রা, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ৬ষ্ট পর্যায়ের ঝিনাইদহের প্রকল্প পরিচালক মৌসুমি সুলতানার পরিচালনায় কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন মন্দিরের শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পসমূহ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম একটি কার্যকর পদ্ধতি। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, উন্নত নৈতিক মানবিক চরিত্র গঠন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ও সহানুভূতিশীল সামাজিক সহাবস্থানের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উপমহাদেশের নিজস্ব স্বতন্ত্র ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতি-প্রথা রয়েছে। প্রতিটি ধর্মের বাণী পরিবার, সমাজ, জাতি ও জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণকর। সকলের উচিত নিজ নিজ ধর্মচর্চা করা। ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে নৈতিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আমাদের সবাইকে সুন্দর সহানুভূতিশীল পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকল্পের অধীন কর্মরত শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এনএ/


