মিয়ানমারের কারেন রাজ্যে বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটির ৬২ জন সেনা সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি সেনাচৌকিতে এ ঘটনা ঘটে।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্তাবিরোধী কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) অতর্কিত হামলা চালিয়ে ওই সেনাচৌকি দখলের চেষ্টা করে। কয়েক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধের মধ্যে ১৮ জন সেনা নিহত হন এবং আহত হন ১১ জন। পরে আহত সেনাদের সঙ্গে নিয়ে বাকি সেনারা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেন এবং থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেন।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আশ্রয় নেওয়া সেনাদের ফপ ফারা জেলার একটি এলাকায় রাখা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং সামরিক সরকারের নেতৃত্বে আসেন। গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সুচি এবং তার দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর জনগণের বিক্ষোভ দমন করা হলেও, পরবর্তী সময়ে অনেকেই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একযোগে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। বর্তমানে তারা মিয়ানমারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছে।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কেএনএলএ মিয়ানমারের অন্যতম পুরোনো এবং প্রভাবশালী জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী। সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের লড়াই এখনও চলছে।
এনএ/


