অস্ত্রসহ দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে কুষ্টিয়ার একটি বাসা থেকে তার এক সহযোগী মোল্লা মাসুদসহ গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
ঢাকার অপরাধ জগতের দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পেছনের একটি বাসা থেকে সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবিাহিনী থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় তিন ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সহযোগীসহ তাকে আটক করা হয়। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ সময় ২টি পিস্তল, ৪ টি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সেনা বাহিনীর চৌকস সদস্যদের একটি দল বাসাটি ঘিরে রাখে। দুজনকেই ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
এদিকে আজ ২৭ মে (বুধবার) শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন আটক সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। সময়: বিকাল ৫টায়। প্রেস ব্রিফিং এর স্থান: বনানী রেল ক্রসিং ও রেডিসনের মাঝামাঝি মেস-এ, স্টাফ রোড, ঢাকা সেনানিবাস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সেনাবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন ব্যাক্তির মধ্যে একজন সুব্রত বাইন। ডিজিএফআইয়ের সূত্র বলছে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার একটি বাড়িতে ঢাকা থেকে আসা সেনাবাহিনীর টিম অভিযান পরিচালনা করে সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিটা তারা জানাবেন। সকাল ১০টার দিকে পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের কালিশংকরপুর সোনার বাংলা মসজিদ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, মীর মহির উদ্দিনের মালিকাধীন তিনতলা ভবনের সামনে এলাকাবাসীর ভীড়। গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে স্থান ত্যাগ করেন অনেকে। যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন তারাও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন। এ সময় রবিউল ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় রাস্তায় চারটা সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখতে পাই। এ সময় মীর মহির উদ্দিনের বাড়ি ঘিরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে ছিল।
কালিশংকরপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গেল দেড় মাস আগে কালিশংকরপুর সোনার বাংলা সড়ক এলাকার মৃত মীর মহিউদ্দিনের তিনতলা বাড়ির নিচ তলা ভাড়া নেয় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যাক্তিরা। তাকে বাড়ি ভাড়া নিতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় প্রবাসী ফেরত হেলাল নামে এক যুবক। ওই বাড়িতেই থাকতেন তারা। বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে দরজা- জানালা খুলতে দেখেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। উপরের দুই তলায় ছাত্রাবাস ছিল। আজ হঠাৎ ভোররাতে বাড়িটির তালা ভাঙার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন তারা। এরপর দেখতে পান সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে। এর কিছুক্ষন পর দুজনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে নিয়ে যান তারা। পরে জানতে পারেন এই বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তার সহযোগিরা। এরপর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

ছাত্রাবাসে থাকা ইমন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ভোর রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাত্রাবাসে এসে আমাদের সবাইকে একসাথে করে। একটি রুমের ভেতর ১৮ জনকে রেখে আমাদেরকে বলে অভিযান চলছে। এরপর নিচ তলা থেকে দুইজনকে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে ডিজিএফআইয়ের এক সদস্য বলেন, ঢাকার একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেছে। দুইজনকে নিয়ে গেছে। জানতে পেরেছি এদের মধ্যে একজন সুব্রত বাইন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। তারা এ ব্যাপারে কথা বলেননি।
উল্লেখ্য, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনকে ধরতে তার মাথার ওপর ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে তাকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম ছিল সুব্রত বাইন।
পড়ুন : ২৪ মামলার আসামি, শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ভাইপো রাকিব’ গুলিবিদ্ধ


