নীলফামারীর সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যতিক্রমী এক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছিল, তখনই অধ্যক্ষের সঙ্গে পুলিশের পোশাকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন একজন ব্যক্তি। প্রথমে বিস্মিত হয়ে উঠলেও পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে, তিনি সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দীন।
ওসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বোর্ডে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর লিখে জানান, কোনো বিপদে পড়লে, বা মেয়েরা যদি রাস্তায় উত্যক্ত হওয়ার শিকার হয়, তাহলে যেন তারা সরাসরি এই নম্বরে ফোন করে সাহায্য নেয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করে, “গ্রামে যদি ১৮ বছরের নিচে কারও বিয়ে হয়, তাহলে কি এই নম্বরে ফোন করা যাবে?” জবাবে ওসি বলেন, “অবশ্যই! প্রয়োজনে এসএমএসও পাঠাতে পারবে, এবং থানার মহিলা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলতে পারবে। ভয় বা সংকোচ করতে হবে না।”
দুই ঘণ্টার এই ক্লাসে উঠে আসে নাবালিকা বিয়ের প্রতিরোধ, মোবাইল আসক্তির কুফল, নারী নিগ্রহ, শ্লীলতাহানি এবং যৌন হয়রানি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে সচেতন করেন।
স্কুলের ছুটির সময় ঘনিয়ে এলেও, শিক্ষার্থীরা তার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। ক্লাস শেষে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের ইভটিজিং এবং সামাজিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, এবং যে কোনো সংকটে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।
ওসি ফইম উদ্দীন বলেন, “অনেক অপরাধ থানায় পৌঁছায় না, ফলে অপরাধীরা শাস্তি পায় না এবং ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদের সাহস হারিয়ে ফেলে। এজন্যই আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি।”
তিনি জানান, তিনি ইতিমধ্যে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিয়েছেন, এবং আরও কিছু স্কুল-কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।”
এনএ/


