১১/০২/২০২৬, ১৩:৫১ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
১১/০২/২০২৬, ১৩:৫১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্টরা কে কোথায়?

নিজেদের মেয়াদকালে বারবার বিজিএমইএকে বিতর্কিত করেছে সম্মিলিত পরিষদের প্রেসিডেন্টরা। অরাজনৈতিক সংগঠনকে-পরিণত করে রাজনৈতিক কার্যালয়ে। আবার কারচুপি ও নিয়ন্ত্রিত ভোট আয়োজন করে খারাপ নজির গড়েছেন সম্মিলিত পরিষদ নেতারা। কেউ আবার, ফন্দি ফিকির করে, দুই বছরের মেয়াদ টেনে নিয়ে গেছেন ৩/৪ বছর পর্যন্ত।

এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পতিত সরকারের সবুজ সংকেতে, ২০২৪ সালের ৯ মার্চ তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন-বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। নিয়ন্ত্রিত আর কারচুপির নির্বাচনের বড় নজির সেদিন দেখেছিলেন পোশাক মালিকরা।

প্রায় পৌনে দুইশ জাল ভোটের কথা এখন অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করছে সম্মিলিত পরিষদের সম্পৃক্ত নেতারা। শুধু তাই নয়, গণনাকালে নিজেদের প্যানেলে আসা বাতিল ব্যালেটও যোগ করে দেয়া হয় চূড়ান্ত ফল।

কেবল কি ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমন বিতর্কিত কর্মকান্ড করেছেন সম্মিলিত পরিষদ। তথ্য উপাত্ত বলছে, গত দুই যুগে, বিজিএমইএকে বার বার কলুষিত আর বিতর্কিত করেছে এই প্যানেলের নেতা ও প্রেসিডেন্টরা। দুই একজন বাদে সবাই জড়িয়েছেন বিতর্কে, আর ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বিজিএমইএকে।

২০০০ সালের পর থেকে, সম্মিলিত পরিষদ, ১০ জন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে। যাদের বড় একটি অংশ সংগঠনটির নেতৃত্ব নেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা শাসন আমলের বড় সময়টায়। আর জিম্মি করে ফেলে পুরো সংগঠন। এই প্যানেল থেকে কিছুটা স্বচ্ছতার তালিকা রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট কুতুব উদ্দিন, কাজী মনিরুজ্জামান ও ফজলুল হক।

বিজ্ঞাপন


পতিত সরকারের বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সম্পৃক্ততা ছিলো এর পেছনে। নিজেদের প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট বানাতে নির্বাচন করা হয় নিয়ন্ত্রণ। এদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান ও ফারুক হাসান নানা কৌশল মেয়াদকাল বাড়িয়ে নেন ক্ষমতা আকড়ে থাকতে। অন্যরা মেয়াদ না বাড়ালে, সংগঠনটি পরিণত করেন আওয়ামী লীগের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, সম্মিলিত পরিষদের চার প্রেসিডেন্ট, সাবেক মন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শদী, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। আর এস এম মান্নান কচি ও সিদ্দিকুর রহমান আত্বগোপনে আছেন, ৫ আগষ্টের পর তাদের আর দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে, সম্মিলিত পরিষদে কোনঠাসা থাকলেও, বর্তমানে প্যানেলটির হাল ধরেছেন কাজী মনিরুজ্জামান। আর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বর্তমান প্যানেল লিডার আবুল কালাম। যদিও, বিগত দিনে এই যারা এর সঙ্গে ছিলেন, তারা বলছেন, সম্মিলিত পরিষদ ছিনতাই করে নিয়েছেন কালাম মনির নেতৃত্ব।

এদিকে, বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব পেয়েছেন ফোরাম থেকে ৪ প্রেসিডেন্ট। যাদের একজন আনিসুর রহমান সিনহা, দুই মেয়াদে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী ও ড. রুবানা হক ফোরামের হয়েছে পোশাক খাতের বড় সংগঠনটির নেতৃত্ব দিলেও, তারা বিজিএমইএকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করেননি। উল্টো সংকটে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে, পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের বাহ্‌বা কুড়িয়েছেন।

এমন যখন বাস্তবতা, আগামী শনিবার সংগঠনটির নির্বাচন। পোশাক মালিকরা বলছেন, এবার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশে, তারা এমন নেতৃত্ব বেছে নিতে চান, যারা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার বিজিএমইএ উপহার দেবেন পোশাক খাতকে।

পড়ুন : বিজিএমইএ নির্বাচন : টেকসই পোশাক খাত গড়তে ১৪ দফা ইশতেহার ফোরামের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন