মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দেবীপুর ডিজেএমসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা নয়, প্রাইভেট ব্যবসার জমজমাট হাট! শিক্ষা নয়, টাকা চাই এ যেন এখন বিদ্যালয়টির অঘোষিত স্লোগান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বদলে, তাদেরকে টাকার মেশিনে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অভিভাবকরা বলছেন, “এই স্কুলে না পড়িয়ে সন্তানকে গরু ছাগল চরাতে পাঠালেও অন্তত মনের শান্তি থাকত!
দীর্ঘ এক যুগে মাত্র একটি এ প্লাস—এতেই বোঝা যায় শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ দশা। অথচ শিক্ষকদের জীবনযাপন ও আয়ের বহর দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা একটি ধুঁকতে থাকা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ত্বে আছেন।
অভিযোগ উঠেছে—বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন ক্লাসে ঢোকেন শুধুমাত্র প্রাইভেট পড়ানোর ‘প্রচার’ করতে। ক্লাসে ছাত্রদের সরাসরি বলে দেন, আমার কাছে প্রাইভেট না পড়লে কিছুই শিখতে পারবা না, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেব। বিদ্যালয়টির শিক্ষক আওলাদ হোসেন, শাহীন আলী এবং সায়েম আলীর নাম উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি।
শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা স্কুলে যা পড়ি, তা বোঝা যায় না। স্যাররা বলেন, প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষা পাস করতে পারবা না। বাধ্য হয়ে পড়ি, নাহলে ফেল করিয়ে দেয়।
সাবেক শিক্ষার্থী সাগর আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আওলাদ স্যার ক্লাসে সরাসরি বলতেন—বাইরে প্রাইভেট না পড়লে কিছুই হবে না। যারা তাঁর কাছে পড়ত না, তাদের ক্লাসে হেয় করা হতো। এটা কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাকি দালালির হাট?
অভিভাবক মশিউর রহমান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে আইন-আদর্শ বলে কিছু নেই। স্কুলে প্রকাশ্যে প্রাইভেট চলে, অথচ প্রধান শিক্ষক কিছুই বলেন না। কারণ তিনি নিজেই প্রাইভেট বাণিজ্যের ছাতার নিচে আশ্রয় দিয়েছেন তাদের।
অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষার্থীর ভিড় নয়, ফাঁকা বেঞ্চের প্রতিচ্ছবি। কারণ অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে অন্য স্কুলে ভর্তি করে দিচ্ছেন। দিনে দিনে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতিতে কিছু দুর্বল ছাত্রকে আলাদা করে ক্লাস নিই। যদি সমস্যা হয় বন্ধ করে দেব। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই “আলাদা ক্লাস” কি আদতে প্রাইভেট পড়ানোর নামান্তর নয়?
অভিযোগের বিষয়ে আওলাদ হোসেন এবং সায়েম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের এই নীরবতা যেন অভিযোগকেই প্রমাণ করে দিচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, আমি একটু পরে গাংনীতে যাব, তখন কথা বলব। যদিও এই কথার পেছনে লুকিয়ে থাকা নিষ্ক্রিয়তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন: বরিশালের অভ্যান্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
দেখুন: ‘সরকারী কর্মচারী, আমার কিসের রাজনৈতিক আনুগত্য’
ইম/


