বিজ্ঞাপন

এটাই ছিল লিটমাস টেস্ট, জাতীয় নির্বাচন কীভাবে করবেন?’

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। ইসির আইনজীবীর উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেছেন, জুলাইয়ের পরও তো সিস্টেম ঠিক হয়নি। এটাই ছিল লিটমাস টেস্ট, আগামী জাতীয় নির্বাচন কীভাবে করবেন? নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। সংবিধান ইসিকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা প্রয়োগ না করে শপথের বিষয়ে মতামতের জন্য কেন আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠালেন? 

বিজ্ঞাপন

ইশরাককে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো হবে কিনা, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে পর্যবেক্ষণসহ এ আদেশ দেন।

পরে ইশরাকের শপথের ব্যাপারে ইসি সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আদালতকে জানিয়েছেন আইনজীবী ইয়াসিন খান। আদালতে  ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন।

এদিকে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ না হওয়ায় ইশরাককে মেয়র পদে শপথ পড়ানো হবে কিনা, তা নিয়ে দু’পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে। রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। তাই ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে ইসির জারি করা গেজেটের আর কার্যকারিতা নেই। অন্যদিকে ইশরাকের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলছেন, গেজেট এখনও বহাল আছে। 

রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি
আপিল বিভাগের রায়ের অনুলিপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে চান না প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। গতকাল বিকেলে নির্বাচন ভবনে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের কপি এখনও পাইনি। এটা পাওয়ার পর আইনি দিক পরীক্ষা করে আমাদের যা করণীয় তাই করব। ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর বিষয়টি নিয়ে গতকাল অন্য নির্বাচন কমিশনার ও একাধিকবার ইসির আইন শাখার সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি।

কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা ইশরাকের
সরকার আদালত অবমাননা করছে দাবি করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন বলেছেন, শপথ পড়ানোর শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় কাল থেকে কঠোর আন্দোলন। টানা ১৬ দিনের আন্দোলনে গতকাল দুপুরে নগর ভবনের সামনে আন্দোলনে যোগ দেন ইশরাক। গত ১৪ মে ‘ঢাকাবাসী’র ব্যানারে আন্দোলনে নামে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী, ইশরাকের সমর্থকসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা। মাঝে ৪৮ ঘণ্টার বিরতির পর আবার কর্মসূচি চলছে।

এদিকে নগর ভবনের আধিপত্য নিয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক সংগঠনের দু’পক্ষ গতকাল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ১০ জন আহত হন। পরে ইশরাক হোসেন নগর ভবনে গিয়ে দু’পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

পড়ুন: সারা দেশে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত

দেখুন: ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের হাসিই বড় পাওয়া: প্রধানমন্ত্রী

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন