১৬/০২/২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৬/০২/২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মেহেরপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ছাগলের হাট

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী বাজারে জমে উঠেছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ছাগলের হাট। শনিবার সকাল থেকেই হাটে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বিশেষ করে কোরবানির জন্য বিশ্বখ্যাত ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগল কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ছুটে এসেছেন এখানে।

বিজ্ঞাপন

এ বছর শুধু ব্ল্যাকবেঙ্গলই নয়, হাটে উঠেছে রাম ও যমুনাপাড়ি জাতের বড় আকৃতির ছাগলও। হাটে আগত ক্রেতাদের নজর কেড়েছে একটি ৮০ কেজি ওজনের যমুনাপাড়ি জাতের ছাগল ‘কালা মানিক’ এবং ৬০ কেজি ওজনের রাম জাতের ছাগল ‘চিত্রা’।

সাধারণত প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার বসে বারাদী ছাগলের হাট। এই দুইদিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার ছাগল কেনাবেচা হয় বলে জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা এখানে ছাগল কিনছেন। ঢাকায় কালো রঙের এবং চট্টগ্রামে লাল রঙের ছাগলের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন হাটে আসা ব্যবসায়ীরা।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, ৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল উঠেছে। মাঝারি দামের ছাগলের ক্রেতা বেশি হলেও বড় আকৃতির ও দৃষ্টিনন্দন ছাগলেও আগ্রহ রয়েছে। এসব বড় ছাগলের বেশিরভাগ ক্রেতাই ঢাকার।

হাটে কোরবানির ছাগল কিনতে এসেছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দাম তুলনামূলকভাবে নাগালের মধ্যে থাকায় সন্তুষ্ট ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা কিছুটা হতাশ, কারণ ছাগল বেশি উঠলেও কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি হচ্ছে না।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুর সাহারুল ইসলাম বলেন, কোরবানির সময় এ অঞ্চলের হাটে প্রচুর ছাগল আমদানি হয়। আমরাও এখানে আসি ভালো জাতের ছাগল কিনতে। এখানে সারা বছরই ছাগল পাওয়া যায়, তবে ঈদের আগে ভালোমানের ছাগলের সমারোহ থাকে। বড় জাতের ছাগলের চাহিদা বেশি ঢাকাতে। যাত্রাবাড়ী হাটে তোলা হবে এগুলো।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ছাগল নিয়ে আসা হামিদুল ইসলাম বলেন, হাটে সব ধরনের খাসি উঠেছে। দাম ৭-৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এবছর ছাগলের আমদানি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হলেও দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই। তবে আমাদের প্রত্যাশিত দাম মিলছে না।”

ছাগল কিনতে আসা হাসান আলী বলেন, ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা বাজেট নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ভালো দেখে শেষ পর্যন্ত ১৮ হাজার টাকায় ১৭-১৮ কেজির একটি ছাগল কিনেছি। দাম তুলনামূলক ভালো।

বারাদী হাটের ইজারাদার সোহেল রানা বলেন, এখন প্রতি হাটে ৮ থেকে ১০ হাজার ছাগল আমদানি হচ্ছে। জেলা ও জেলার বাইরের ব্যাপারীরা আসছেন তুলনামূলক সস্তায় ছাগল কিনতে। বেচাকেনাও বেশি হচ্ছে। প্রতি হাটে ৭০-৮০ লাখ টাকার কেনাবেচা হচ্ছে। কোরবানির আরও কিছুদিন বাকি আছে, আশা করছি মোট লেনদেন কোটি টাকা ছাড়াবে।

মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কুমার ব্যার্নাজী জানান,জেলা পশু সম্পদ কর্ম কর্তা জানালেন মেহেরপুরে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার গবাদি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মেহেরপুরের চাহিদা ১ লক্ষ । অতিরিক্ত পশু দেশের বিভন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়ে যাবে। পশু সম্পদ বিভাগ আশা করছে খামারিরা গবাদি পশু বিক্রি করে ভালো লাভ করবে এবার।

নিচে মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম-এর একটি বক্তব্য কোড আকারে তৈরি করে দেওয়া হলো, যাতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বারাদি ছাগলের হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে:

মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বারাদি ছাগলের হাটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। হাট এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, রয়েছে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য। প্রতিটি প্রবেশ ও বাহির গেটে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অস্ত্র বা সন্দেহজনক কিছু নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে। হাটে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ পেট্রল টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে যাতে যানজট না হয় এবং মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। পশু বেচাকেনা সংক্রান্ত যেকোনো ধরণের প্রতারণা ঠেকাতে আমাদের সাইবার মনিটরিং টিমও কাজ করছে। আমরা চাই, মানুষ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাটে কেনাকাটা করতে পারে।

পড়ুন: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

দেখুন: বঙ্গোপসাগরে জেলেদের ওয়াকিটকির লাইসেন্স দেয়ার চিন্তা |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন