২০/০২/২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঈদকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ‘পর্যটকদের ঢল’ নামার প্রত্যাশা

ঈদুল আজহাকে (কোরবানির ঈদ) কেন্দ্র করে এবারই প্রথম টানা ১০ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আগামী ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত দশ দিনের টানা ছুটিতে দেশের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এদিকে, হ্রদ-পাহাড়ের জেলা রাঙামাটির পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরাও প্রত্যাশা করছেন এবার ঈদকে কেন্দ্র করে জেলায় পর্যটকদের ঢল নামবে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজগুলোতেও নেওয়া হচ্ছে আগাম বুকিংও।

বিজ্ঞাপন

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য বছর ঈদ উপলক্ষে ৪-৬ দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও এবারই প্রথম ১০ দিনের টানা ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরজীবীরা। এতে করে ঈদ উদযাপন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে এবার পর্যটকদের আগমন বাড়বে। ইতোমধ্যে পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্নের কথাও জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে তীব্র দাবদাহে শুকিয়ে যেতে শুরু করে বিশালাকার কাপ্তাই হ্রদের পানি। কিন্তু এবছর ভারি বর্ষণের ফলে বর্ষা মৌসুমের আগেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে শুরু করেছে। প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঝিরি-ঝর্ণাগুলোও। এতে করে অনুকূল আবহাওয়া ও হ্রদের পানি কিছুটা বাড়ার কারণে এখন হ্রদ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়ও। তবে কাপ্তাই হ্রদ ছাড়াও রাঙামাটি শহর এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর মতোন অসংখ্য পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রও রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে অন্যতম রাঙামাটি ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, কেরাণী পাহাড়, পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, আরণ্যক, রাঙাদ্বীপ, রাজবন বিহার, চাকমা রাজবাড়ি, গাঙ সাবারাং, বার্গী লেকভ্যালি, বেরাইন্না, বরগাঙ, রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক অন্যতম। এছাড়াও জেলার কাপ্তাই উপজেলার নিসর্গ পড হাউজ, লেকশোর, জুম রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়া উঠা এসব পর্যটনকেন্দ্র মুগ্ধ করবে ভ্রমণপিপাসুদের। বিলাইছড়ির ধুপপানি ঝর্ণা, নিলাদ্রী রিসোর্ট ছাড়াও রয়েছে একাধিক ঝর্ণা। অন্যদিকে, আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত মেঘ পাহাড়ের উপত্যকা-খ্যাত সাজেক ভ্যালি পর্যকেন্দ্রেও চলছে আগাম বুকিং।

জানতে চাইলে সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুর্বণ দেববর্মণ জানান, টানা ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুুতি নেওয়া হয়েছে। সাজেকে ছোট-বড় মিলে মোট ৯৮টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। আজকে (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। সামনে যদি আবহাওয়া পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আশা করছি, শতভাগ রিসোর্ট-কটেজ বুকিং হয়ে যাবে।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, আগামী ৯-১৩ জুন পর্যন্ত আমাদের মোটেলে ৮০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং রয়েছে। আমরা আশা করছি, শতভাগ বুকিং হবে। পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার জন্য মোটেলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণে করা হয়েছে। আমরা পর্যটকদের রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় স্বাগতম জানাচ্ছি।

রাঙামাটি জেলা হোটেল-মোটেল সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হোটেল সৈকতের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, এবছর অন্যান্য বছরের চেয়ে পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা বাড়বে। কারণ এবার বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বেড়েছে, ঝিরি-ঝর্ণাগুলোও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। অন্যদিকে অন্যান্য ঈদ মৌসুমের ৪-৬ দিনের ছুটি থাকলেও এবার ১০ দিনের টানা ছুটি। এটি পর্যটকদের আগমন ঘটার অন্যতম একটা বড় কারণ।

পাহাড়ি খাবারের দোকান সুনজুক হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী সূচনী চাকমা বলেন, ঈদ উপলক্ষে টানা ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকদের আগমন ঘটবে। তবে এবার ছুটির দিন বাড়ায় পর্যটকদেরও টানা উপস্থিতি হতে পারে। ঈদের সময় সাধারণত বাঙালি খাবারের দোকানপাটগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের আদিবাসী খাবারের দোকানে পর্যটকদের চাপ কিছুটা বাড়ে। আশা করছি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

পড়ুন: নাটোরে মামলা থেকে নাম বাদ দেবার কথা বলে ৫ লাখ টাকাঘুষ দাবী এসআইয়ের বিরুদ্ধে

দেখুন: আগামী শুক্রবার, ভোট দিয়ে দেখুন পছন্দের সিনেমা

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন