১৩/০১/২০২৬, ১৮:০০ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১৩/০১/২০২৬, ১৮:০০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খিলজি সাম্রাজ্য: সুলতান আলাউদ্দিনের বীরত্বগাঁথা

উপমহাদেশের ইতিহাসে খিলজি রাজবংশের নাম এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। খিলজি সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক আলাউদ্দিন খিলজি তার শাসনামলে নিপীড়নকারী হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করলেও তার সাহসিকতা, সামরিক পরাক্রম এবং রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির জন্য ইতিহাসের পৃষ্ঠায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার নেতৃত্বে খিলজি সাম্রাজ্য ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় এবং তিনি উপমহাদেশে এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন।

বিজ্ঞাপন

আলাউদ্দিন খিলজির উত্থান

আলাউদ্দিন খিলজি, যার আসল নাম ছিল আলী গুরশাপ, ১২৯৬ সালে খিলজি সাম্রাজ্যের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তার শাসনামল ১২৯৬ থেকে ১৩১৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দিল্লির সুলতান জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজির হত্যার পর আলাউদ্দিন সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তার শাসনামলে সাম্রাজ্যের সীমানা উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

সামরিক বিজয় ও সাম্রাজ্য বিস্তার

আলাউদ্দিন খিলজি তার সামরিক দক্ষতা ও পরাক্রমের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে খিলজি সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করেন। তার শাসনামলে দাক্ষিণাত্যে অভিযান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৩০৩ সালে রানাথম্ভোরের চিতোর দুর্গ জয় করে এবং ১৩০৬-১৩১৩ সালের মধ্যে দাক্ষিণাত্যের দেবগিরি, ওয়ারাঙ্গল ও হোয়াইলাগণ্ডু সহ বিভিন্ন রাজ্য জয় করেন। এই বিজয়গুলি খিলজি সাম্রাজ্যের সীমানাকে বিস্তৃত করে এবং তাকে এক শক্তিশালী শাসকে পরিণত করে।

শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংস্কার

আলাউদ্দিন খিলজি তার শাসনামলে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার করেন। তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মজুতদারি ও কালোবাজারি বন্ধ এবং সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। আলাউদ্দিন খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এর ফলে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

নির্মমতা ও নিপীড়ন

তবে আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামল শুধুমাত্র তার বীরত্ব ও সামরিক দক্ষতার জন্যই নয়, তার নির্মমতা ও নিপীড়নের জন্যও সমালোচিত। তিনি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন এবং তার শাসনামলে বিরোধীদের নির্মমভাবে দমন করতেন। তার শাসনামলে অনেক হিন্দু রাজা ও তাদের রাজ্য নিপীড়নের শিকার হয়। তিনি বিভিন্ন রাজ্যের সম্পদ লুটপাট করেন এবং তা দিয়ে তার সাম্রাজ্যের ধনভাণ্ডার পূর্ণ করেন।

ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক ঐতিহাসিক তাকে নিপীড়নকারী ও নির্মম শাসক হিসেবে চিত্রিত করেছেন, আবার অনেকের মতে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ও সাহসী শাসক। তার শাসনামলে সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সামরিক শক্তির বিস্তার হয়েছিল। তার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারগুলি পরবর্তী যুগের শাসকদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকে।

সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামল এক দ্বৈত চিত্র উপস্থাপন করে, যেখানে একদিকে রয়েছে তার বীরত্ব ও সামরিক দক্ষতা, অন্যদিকে রয়েছে তার নির্মমতা ও নিপীড়ন। এই দ্বৈততার মধ্য দিয়েই তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হন। 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন