বিজ্ঞাপন

গাংনীতে জোরপূর্বক কলেজ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখার অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মড়কা কলেজে জোরপূর্বক নির্মাণ সামগ্রী রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সামিয়া ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম, শিক্ষার্থীরা কলেজে যেতে পারছে না, আর জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে।

জানা যায়, গভর্নমেন্টস মেইনটেইন্স প্রকল্পের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে রুইয়ের কান্দি পর্যন্ত ১৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ পেয়েছে গাংনীর সামিয়া ট্রেডার্স। কাজটির বরাদ্দ ৫১ লাখ ৫৭ হাজার ৮০৯ টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কাজের জন্য নির্মাণ সামগ্রী রাখার স্থান হিসেবে মড়কা কলেজ প্রাঙ্গণকে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি, তাও নাকি কলেজ কর্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও।

মড়কা কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনুমতি না নিয়েই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন জোর করে কলেজ মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখে। বহুবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কর্ণপাত করেনি।

নির্মাণসামগ্রীর কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছে। অনেকেই কলেজে যাওয়া বন্ধ রেখেছে। শিক্ষার্থী রায়হান আলী জানায়, ধুলাবালি আর বিটুমিনের গন্ধে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় ক্লাস করা অসম্ভব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় সূত্র দাবি করেন, কলেজের অধ্যক্ষ নাকি আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে নির্মাণ সামগ্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন।

তবে কলেজের অধ্যক্ষের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, সামিয়া ট্রেডার্সের মালিক সাইদুর রহমান রাইফেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমরা নির্মাণ সামগ্রী রেখেছি। সবকিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানান, আমার জানা মতে কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েই কাজ চলছে। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত বিটুমিন থেকে যে ধোঁয়া নির্গত হয়, তা শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ করার সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: মেহেরপুরে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল চুরির অভিযোগ

এস

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন