২৬/০২/২০২৬, ১৩:৪৬ অপরাহ্ণ
30.4 C
Dhaka
২৬/০২/২০২৬, ১৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আশুগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা বানিজ্যের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মামলার ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। আমিনুল মাস্টার নামে ওই নেতার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আতাউর রহমান নামে এক চায়ের দোকানদার। আমিনুল মাস্টার উপজেলা বিএনপির সহ তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। তিনি একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকও।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার রাতে থানায় করা আতাউর রহমান অভিযোগে লিখেন, আমার শরীফপুর গ্রামের শেরআলী মার্কেটে চা কফির দোকান রয়েছে। এই দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করি। অভিযুক্ত আমিনুল মাস্টার আমার এলাকার পূর্ব পরিচিত। তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ এলাকায় নিরীহ লোকজনদের উপর অন্যায় অত্যাচার করে আসছেন। তিনি গত ১৩ জুন স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন ও ইয়াকুব আলীকে পেয়ে জানান, তাদেরসহ আমার বিরুদ্ধে থানায় লিষ্ট করা হইছে। আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হবে। আমরা নাকি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেছি। তখন আমরা জানায় যে, আমরা আমাদের কর্ম নিয়ে ব্যস্থ থাকি। রাজনীতি করার সময় কই। তখন আমিনুল মাস্টার জানায় যে, লিষ্ট হইয়া গেছে বাঁচার কোন উপায় নাই। বাঁচার একমাত্র উপায় হল তাকে প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। টাকা দিলে লিষ্ট থেকে নাম কেটে দিবে। তখন আমরা জানায় যে, আমরা সাধারণভাবে জীবন যাপন করি। আমরা এত টাকা পাব কই। তখন আমিনুল মাস্টার জানায় যে, টাকা না দিলে মামলা হবে আমাদের নামে। এর কিছু দিন পর তিনি পুনরায় আমাদের কাছে এসে টাকা দাবী করেন। তখন আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত আমিনুল মাস্টারের এই সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই রেকর্ডে অভিযুক্ত আমিনুল মাস্টার বলেন,’ আমি তো সরল মনে উপকার করতে গেছিলাম, কারো কাছ থেকে টাকা নেয়নি। কারা যে এগুলো ছড়াইলো! দারোগা তালিকা নিয়া আসার পর আমি জানাছি নামটা কাটিয়ে ফেলতে। আমি সাদ্দামকে বলছিলাম তোমার নাম কাটাতে চাইলে এমন সুযোগ আছে। তারা যে বানিজ্য করে তা তো জানি।’

এই বিষয়ে অভিযোগের সাক্ষি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমিনুল মাস্টার আমার হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলেন যোগাযোগ করতে। পরে তার সাথে যোগাযোগ করলে জানান থানায় তিনটি মামলার তালিকা হয়েছে আমাদের নাম সহ। যদি টাকা পয়সা দেও তাহলে তোমাদের নাম কাটানো যাবে। তখন আমি প্রতিবাদ করে বলি কেন আমাদের নামে মামলা হবে, তিনি বলেন তা জানেন না। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি গ্রামের অনেককেই এমন তিনি বলেছেন। তিনি গ্রামের ২০/৩০জনকে বলেছেন টাকা দিলে নাম কাটিয়ে দিবেন। কয়েকজন টাকা ইতিমধ্যে দিয়েও দিয়েছেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আমিনুল মাস্টার বলেন, আমি শিক্ষক ও সৎ মানুষ। আমার প্রতিপক্ষ আমাকে ঘায়েল করার জন্যে আমি যে পদ না পাই আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টি মিলে এসব করছে। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেকর্ড দিয়ে তারা আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। কন্ঠ আমার হতে পারে। কোন সময় করলো সেটা আমি জানি না। আপনি আমার সাথে দেখা কইরেন।

এই বিষয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিল্লাল হোসেন বলেন, আমিনুল মাস্টারে বিরুদ্ধে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

পড়ুন: মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বিদেশি খেলোয়াড়দের খেলা দেখতে উপচেপড়া ভিড়

দেখুন: কেন থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা? 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন