চুয়াডাঙ্গায় সাত বছর বয়সী শিশু সুমাইয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মোমিনুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় প্রচলিত আইনে তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সকালে দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের শিশু সুমাইয়া আক্তার স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সে ফিরে না আসায় খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। রাত ৯টার দিকে গ্রামের একটি শিমক্ষেতে মাচার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্তে নেমে একই গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে মোমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা নাছিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মোমিনুলকে একমাত্র আসামি করে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
তবে মামলার বাদী ও নিহত শিশুর বাবা নাছিরুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রত্যাশিত বিচার পাইনি। তাই উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
পড়ুন : চুয়াডাঙ্গায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার


