খুলনায় এক রাতে দুইজনের খুনের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অন্যতম সহযোগী সাব্বির (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় আরও ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই রাতে হরিণটানা থানার রাজবন্ধ এলাকার দক্ষিণ পাড়ায় বাবলু দত্ত (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, নিহত ও গুলিবিদ্ধ যুবকরা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অন্যতম সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে সেই সোহাগও শীর্ষ মাদক বিক্রেতা। নিহত সাব্বির নগরীর শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হকের ছেলে। গুলিবিদ্ধ সাদ্দাম নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার সোনার বাংলা গলির বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে। মিরাজের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। এলাকায় তিনি কাউয়া মিরাজ নামে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের পপুলার এলাকার সোহাগের বাড়িতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাব্বিরের মৃত্যু হয় এবং সাদ্দাম নামে আরেক যুবকের মাথার পেছনে একটি গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাদ্দামকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয়রা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ওই বাড়ির মধ্যে একজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর হরিণটানা রাজবন্ধ এলাকার দক্ষিণ পাড়ায় বাবলু দত্ত (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত বাবুল দত্ত দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা অমূল্য দত্তের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাইরের কাজ শেষ করে বাবলু দত্ত মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গতিরোধ করে ফাঁকা একটি প্লটের মধ্যে নিয়ে যায়। প্লটের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তাকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ খায়রুল বাসার বলেন, ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, নিহত এবং আহত দুই জনই খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্য। সাব্বির এবং সাদ্দামসহ আরও অনেক যুবক ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। রাতে ৫-৭ জন দুর্বৃত্ত সশস্ত্র অবস্থায় তাদের ওপর আক্রমণ করে। একটি গুলি সাব্বিরের মাথার পেছন থেকে ভেদ করে সামনের একটি চোখ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং একটি গুলি সাদ্দামের মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৬টি গুলির খোসা, ৪ রাউন্ড তাজা গুলি, কিছু ইয়াবা এবং গ্রেনেডের মতো দেখতে একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। রাতে সাব্বিরের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত মাসে রূপসায় কালা রনি নামের এক সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন সাব্বির। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হামলাকারী ও শিকার দুই গ্রুপই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে, একই রাতে দুটি হত্যাকাণ্ডে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
এনএ/


