বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাটে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যা মামলায় আসামী হলেন বিএনপি নেতা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম (৪০) কিনাকে হত্যার ঘটনায় পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইটকে হুকুমের আসামী করে আরো দুজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার। নিহতের ভাই রেজুয়ান হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন- পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম বীরনগর (পুটারবিল) এলাকার কামালের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২১) ও মৃত নাছের প্রামাণিকের ছেলে হাফিজার রহমান (৬০)।

রোববার সন্ধায় পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানাযায়, গত (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম (কিনা) দানেজপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে মোটরসাইকেলে অবস্থান করছিলেন। তখন পূর্বপরিকল্পতিভাবে হাফিজার রহমান কিনার মোটরসাইকেল সজোরে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এসময় আরিফুল আকড়াযুক্ত গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পিছনে আঘাত করলে সে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটে পরেন। তখন স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে দেন। পরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় (২৬ জুন) বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মৃত্যু বরন করেন।

মামলার বাদি নিহতের বড়ভাই রেজুয়ান মন্ডল বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে যারা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চাই। সেই সঙ্গে আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে এ মামলায় পৌর বিএনপির নেতাকে আসামী করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যার ঘটনায় আমি যেটুকু জানতে পেরেছি সেটি হল তার ব্যক্তি দ্বন্দ্ব। প্রথমে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিনা আরিফুল নামের ওই ছেলেকে মারপিট করে। পরে ওই ছেলে কিনাকে মারপিট করলে সে মারা যায়।

তিনি আরো বলেন, আমার মনে হয় এঘটনায় পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইটকে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় তাকেও আসামী করেছে। এ মামলা থেকে জিয়াউল ফেরদৌস রাইটের নাম প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নিকট উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এঘটনার সুষ্ঠ ও নিরেপক্ষ তদন্তেরও দাবি জানাচ্ছি।”

ওসি মইনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যহাত আছে।

পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। যার একটিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডালিম অন্যটিতে নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ গফুর মন্ডল। নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রেজাউল করিম কিনা ছিলেন গফুর মন্ডলের অনুসারী। অন্যদিকে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট হলেন সাইফুল ইসলাম ডালিমের অনুসারী।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জয়পুরহাটে নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও আবেদন আটকে রাখার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন