স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে তা আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। প্রমাণের মুখে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড পেল গাংনীর সেন্টু।
আজ সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস.এম. নাসিম রেজা এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সেন্টুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। আসামি সেন্টু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার আকুবপুর বাজারপাড়ার ইমরুল ইমামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুন মাসে সেন্টু তার স্ত্রী সাগরিকা খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর বিষয়টি আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাতে থাকে। কিন্তু সাগরিকার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয়। বহু জল্পনা-কল্পনার পর, ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট সকল নথি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেন্টুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (দণ্ডবিধি ৩০২/২০১ ধারা) গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলাটি আদালতে চলে।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। প্রত্যেকের সাক্ষ্যে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠে সেন্টুর পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের চিত্র। প্রমাণিত হয়, স্ত্রীকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করার পর সেন্টু সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি।
রায়ে বিচারক বলেন, একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে নিরাপত্তা ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সেই স্বামীই যদি তার প্রাণ সংহার করে, সেটি সমাজ ও ন্যায়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধ যতো পুরোনোই হোক, সত্য কখনও চাপা থাকে না। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।”
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট সাইদুল রাজ্জাক। তিনি বলেন, “এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত দণ্ড দিয়েছেন।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম নুরুল হাসান রঞ্জ। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এনএ/


