চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের ৪ সদস্য ও আন্দোলনকারী পক্ষের অন্তত ১১জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও আন্দোলনকারী পক্ষের সূত্রে জানা গেছে, রাত নয়টার দিকে পটিয়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।পরে তাঁকে পটিয়া থানা চত্বরে নিয়ে আসা হয়। আটক ছাত্রলীগ নেতার নামে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে অনিহা প্রকাশ করে। এ নিয়ে আটককারী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরে সংঘর্ষের রুপ নেয়।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সমন্বয়ক গোলাম মওলা মাশরাফ জানান, পটিয়া শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগ নেতা দীপংকর দেকে পটিয়া থানার মোড়ে দেখে চিহ্নিত করে এবং থানায় নিয়ে আসেন।পটিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে না চাইলে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। এসময় পুলিশ তাদের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করার কথাও জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণের এই নেতা।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। তবে নিয়ে আসার পরে মব সৃষ্টি করে তাঁকে মারধর করা হচ্ছিল।
এসময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এতে তিন–চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এঘটনায় আহত হয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আশরাফুল ইসলাম তৌকির (২১), মো: নাদিম (২১), মো: আয়াস (১৬), মো: আকিল (১৮), মো: ইরফান উদ্দিন (১৮), তাসরিয়ান হাসান (১৮), মো: রায়হান উদ্দিন (২০), সাইফুল ইসলাম (১৭), জাহেদুল করিম শাহী (১৮), মুনতাসির আহমদ (১৭), সাইফুল ইসলাম (১৮)। আহতরা পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাক্তার মোঃ নওশাদ আহতদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলেন।
এর আগে পটিয়া শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জলন করে জুলাই দিবস পালনকালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক গোলাম মাওলা আশরাফ পটিয়া থানা পুলিশকে বট, দুই নম্বর ও ফাও বলে মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন পুলিশ প্রশাসন টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের সাহায্য করতেছে,আসামীদেরকে আপনারা গ্রেফতার করতে ব্যর্থ।
ছোটখাটোদের ধরার দরকার নেই, এসব অপরাধীদের থাপ্পড়ালে চলবে। দুনীতির জন্য ইতোমধ্যে ১১ পুলিশকে বদলি করেছিলাম,চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরার বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদ, বিএনপি, এনসিপির নেতৃবৃন্দ থানা পুলিশকে তথ্য দিলে পুলিশ অপরাধীদের বলে দিত।এ কারণে রাতে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেওয়ার কথা ও জানান তিনি। আমরা বিপ্লব করেছি মরার জন্য।মৃত্যুকে ভয় পাইনা বলেও মন্তব্য করেন গোলাম মওলা মাশরাফ।
পড়ুন: মধ্যরাতে বরখাস্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার
এস/


