১২/০২/২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লায় দুই সন্তানসহ নারীকে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে দুই নারীসহ তিনজন মাদক কারবারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন গুরুতর আহত হন। যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানার অন্তর্গত করইবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— করইবাড়ী গ্রামের রুবি আক্তার (৪৫), তার ছেলে রাসেল (২৫) এবং আরেক নারী জোনাকী (৩২)। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবির অপর স্বজন রোমা আক্তার (৩৫)-কে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, ডাকাতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর, নবীনগর ও বাঙ্গরা বাজার থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, রুবি আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তাদের কারণে এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং লাঠি-সোটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান এবং একজন গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি মাহফুজুর রহমান আরও জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনার পর থেকে করইবাড়ী গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে টহল জোরদার করেছে এবং এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

পড়ুন: কুমিল্লা নগরীর যানজট নিরসনে ‘মানবিক কুমিল্লা’র ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন