কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা গ্রামে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ কাণ্ডের ঘটনায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া চার আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাইলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
কুমিল্লার আমলী আদালত-১১ এর বিচারক মমিনুল হক বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মুরাদনগর থানার পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) রুহুল আমিন এবং কুমিল্লা আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, মামলার তদন্তের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন জানানো হলে, আদালত তা মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন মোঃ সুমন (২২), রমজান (২৩), মো. আরিফ (২৪), মো. অনিক (২২) আসামিরা সবাই মুরাদনগর উপজেলার পাঁচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২৬ জুন রাতে তারা প্রবাসী এক নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ এবং মারধর করে। এই ঘটনায়, ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানালে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকদিন পর অভিযুক্তরা গ্রেফতার হন।
পাঁচকিত্তা গ্রামের ওই নারী (৪০) গত ২৬ জুন রাতে তার ঘরে একা ছিলেন। এ সময়, স্থানীয় চার যুবক— সুমন, রমজান, মো. আরিফ এবং মো. অনিকসহ কয়েকজন যুবক তার ঘরে ঢুকে তাকে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করে এবং এ সময় তার ভিডিও ধারণ করে। এরপর, তারা ওই নারীর সঙ্গে থাকা যুবক ফজর আলীকে মারধর করে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর, এই ঘটনা ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। সামাজিক মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তের পর মুরাদনগর থানা পুলিশ পর্নোগ্রাফি আইনে চার যুবককে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় মুরাদনগর থানার পুলিশ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, “ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হওয়ার পর, পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।”
কুমিল্লা আদালত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, ধর্ষণ কান্ডের ঘটনায় কোন অরাজকতা তৈরী ও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল তৈরী করার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমারা তাদের রিমান্ডে এনে এসব তথ্যসহ বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। ধর্ষণের মামলায় ফজর আলী বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে আনা হবে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে।
পড়ুন: ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি থাকছে না : সংস্কৃতি উপদেষ্টা
দেখুন: কানাডায় থেকেও হ*ত্যা মামলায় আসামি বীর উত্তমের ছেলে
ইম/


