ফুলের কুড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোঁটা একটা বিবর্তন। পুষ্পঠিত ফুলের সৌরভ অনুরাগীর কাছে আকর্ষণ। তেমনি একজন আকর্ষণীয় নাট্যযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর। মঞ্চ-টেলিভিশন-চলচ্চিত্র নানান মাধ্যম কিন্তু সকল মাধ্যমে তার প্রধানতম সত্ত্বা অভিনেতা। পাশাপাশি তিনি অনসাম্বল থিয়েটারের দলপ্রধান, পঞ্চাশের অধিক মঞ্চ নাটকের নির্দেশক, আশির অধিক মঞ্চ নাটকের অন্যতম প্রধান অভিনেতা, বারশোর অধিক নাট্যরজনীর পাদ প্রদীপের আলোয় অসংখ্য চরিত্রাভিনয়ের একজন গর্বিত চরিত্রাভিনেতা। যার ব্যক্তিসত্ত্বা ও শিল্পসত্ত্বায় মিশে আছে এক অব্যক্ত উচ্চারণ আর তা হল,’ শিল্প কেবল বিনোদন নয় বরং শিল্প এক দায়িত্বের ভাষা। যে ভাষা ভাবায় এবং ভাবতে শেখায়’।

ভাবায় এবং ভাবতে শেখায় বলেই তিনি যেমন নির্দেশনা এবং দলগত অভিনয় নিয়ে একে একে করে চলেন কোর্ট মার্শাল, খ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল, হিটলার ইন বাঞ্চার, সুবচন নির্বাসনে, প্রেক্ষাপট, মহুয়া, কোকিলারা, সুনাগরিকের সন্ধানের মতো কালজয়ী নাটক তেমনি দায়িত্ব বোধের জায়গা থেকে করোনা মহামারীর ক্রান্তিকালে চওড়া কাঁধে চাপিয়ে নেয় অক্সিজেনের ভারী সিলিণ্ডার আর্তের সেবার্থে।
সেবার মানসিকতা মনুষ্যত্বের জাগরণ, দানবিক আচরণ মনুষ্যত্বের অবদমন। বিশ্বব্যাপী মনুষ্যত্বের অবমাননার এই ক্রান্তিকালে, বর্ণবাদ- অর্থনৈতিক বৈষম্য- নিরীহের উপর নিপীড়ন – সম্পর্কের বিভাজন-চাপিয়ে দেওয়া হত্যা প্রভৃতি বিদ্রোহ করে তোলে, আর্তনাদে চিৎকার করতে বাধ্য করে একজন শিল্পী-সংগঠক-অভিনেতা মোঃ আবুল মনসুরকে। আর তাই দীর্ঘ প্রস্তুুতি নিয়ে, দাবানলকে থামাতে, ধরিত্রীকে শীতল করতে অনসাম্বল থিয়েটারের প্রযোজনায়, জুয়েল কবিরের রচনা ও নির্দেশনা, নি:শ্বাসরুদ্ধ সময়ের শৈল্পিক প্রতিবাদের জীবন্ত ভাষ্যে এককঅভিনেতা হয়ে মঞ্চে ওঠেন মঞ্চাভিনেতা মোঃ আবুল মনসুর ‘আই কান্ট ব্রিদ’ নাটকের মধ্যে দিয়ে।

জুলাই মাসের ১৬ ও ২০ তারিখে নাটকটির দুটি প্রর্দশনী যথাক্রমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নিলীমা ইব্রাহিম হলে। মোঃ আবুল মনসুর একজন থিয়েটারের পরিব্রাজক। অন্যায়ের বিপরীতে প্রতিবাদ, প্রত্যাখ্যানের বিপরীতে পুনর্জাগরণ, ঘৃণার বিপরীতে ভালবাসা, বিভাজনের বিপরীতে সমন্বয়, বৈষম্যের বিপরীতে সমানুপাতের লক্ষ্যে থিয়েটার পরিব্রাজক মোঃ আবুল মনসুর এখন আই কাণ্ট ব্রিদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়তে প্রস্তুুত সমগ্র দেশ হয়ে সমগ্র বিশ্বে। শুধুমাত্র বিশ্ব মানবের সামনে দখিনা বাতাসের বদ্ধ দুয়ার শিল্পের ভাষায় খুলে দেবে বলে, একটু বুক ভরে সকলে যেন বাতাস নিতে পারে এই প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারন করে।


