বিজ্ঞাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহামারি রূপে ডেঙ্গু, পৌরসভার পদক্ষেপ কী?

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে  ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড়। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিদিনই হাসপাতালে আসছে নতুন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। বর্তমানে ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ৮ জন শিশু। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৪ জন। এ সময়ের মধ্যে ছাত্রপত্র দেয়া হয়েছে ৩৩ জনকে। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে ৩ জনকে। সবমিলিয়ে হাসপাতালে ভার্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্য দাঁড়িয়েছে ৮০৭ জনে। এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পৌরসভা কী পদক্ষেপ নিয়েছে?


পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, শহরে মশার দাপট এখন আর ঋতুভিত্তিক কোনও বিষয় নয়, বরং বছরজুড়ে চলমান এক নাগরিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দিনের বেলায় ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস, আর সন্ধ্যার পর কিউলেক্সের আক্রমণে অতিষ্ঠ শহরবাসী। বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণের সংখ্যা। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ এতে শঙ্কিত না হয়ে জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পৌরবাসির অভিযোগ, প্রতিদিন ঘরে-বাইরে মশার কামড়ে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে একদিকে ডেঙ্গু আতঙ্ক, অপরদিকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে অস্বস্তির। কিন্তু শহরে মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের—তারা কী করছে?  


স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে সে বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এখনও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে জানাচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যারা এর দায়িত্বে রয়েছেন তারা এটাকে চাকরি হিসেবে দেখছে, সেবা ও ভালোবাসার আন্তরিকতাপূর্ণ সহাবস্থানের অনুপস্থিতিও ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে সাধারণ ওয়ার্ডের বাইরেও আলাদা করে বারান্দায় রোগীদের জন্য বেডের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মাসুদ পারভেজ বলেন, এখন ৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতমাসের তুলনায় এ মাসে ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ক্রিটিক্যাল রোগীদের রাজশাহীতে রেফার্ড করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমাদের কাছে এসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ-সরঞ্জাম আছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।

ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্য বাড়ছে। এই রোগ প্রতিরোধে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে পারে।

পৌরসভার পদক্ষেপ কী?
পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মশা নিধন কর্মসূচি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশক নিধন কার্যক্রমসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, আমাদের যে নিয়মিত কার্যক্রম সেগুলা চালু আছে। আর ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় ক্রাস প্রোগ্রাম চলছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।মাইকিং এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে। একইসাথে ফগিং, লার্ভিসাইডিং এই কাজগুলা চলবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর জন্য পরিবেশগত একটা ফ্যাক্টর আছে। এর প্যারামিটারের উপর ডেঙ্গুর ব্রিডিং এর সাসটেইনেবিলিটি নির্ভর করে। আমাদের কাজ হচ্ছে ডেঙ্গু যেখানে ব্রিড করে সেই প্লেসগুলো ধ্বংস করা। এজন্য আমরা আগেও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিষ্কার পরিচ্ছনতাসহ নানা কার্যক্রম চলেছে। এটাকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

পড়ুন : চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ মাসেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ৭০ অস্ত্র গুলি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন