জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মুজিববাদী সংবিধানের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা এই মেহেরপুর থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাষ্ট্র আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মঙ্গলবার বিকালে মেহেরপুর শহরের কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এনসিপির জুলাই পদযাত্রা শেষে কলেজ মোড়ে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা যে ধরনের রাষ্ট্র কাঠামো চেয়েছিলাম—গণতান্ত্রিক, জনগণের অধিকারসম্পন্ন এবং বৈষম্যহীন সমাজ—তা গড়ে ওঠেনি। মুজিববাদী সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আদর্শে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেনি, বরং তারা একটি শ্রেণিবিশেষের স্বার্থ রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের শাসনের ভিত্তি রচিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক নেতা সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ ও সদস্য সেহেল রানা।
এর আগে, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সভায় বক্তারা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের বাস্তবতা, বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, ৭১-এর চেতনার নামে আজ জনগণ প্রতারিত। প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে, যখন জনগণই হবে রাষ্ট্রের মালিক।
পথসভা শেষে জনতার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। বক্তারা দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান জানান।
পড়ুন: ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে নেত্রকোনায় স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান কর্মসূচী
দেখুন: ‘বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বৈষম্যহীন দেশ গড়বে
ইম/


