নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০০ শয্যা হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৮ কর্মচারী বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দীর্ঘ ১০ মাসের বেতনের ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮০ আত্মসাত করে নিয়োগদানকারী ঠিকাদার লাপাত্তা রয়েছে। এতে ওই ভুক্তভোগীদের মধ্যে জুয়েল ইসলাম নামের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতিমধ্যে আত্মহত্যার চেস্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে ওই ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ঠিকাদার ওবাইদুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে করে তিন জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার অন্য দুই বিবাদী হলেন ওই হাসপাতালের আবসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: নাজমুল হুদা ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো: এরশাদ হোসেন। অন্যান্য ভুক্তভোগীরা হলেন শুভ রায়, আবু বক্কর সিদ্দিক, মশিউর রহমান, মোছা: শাকিলা, মো: রায়হান, বাবু, দিপু ইসলাম ও লিটন ইসলাম। এদিকে এসব কর্মচারী নিয়োগে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকটের কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ পায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের ওবাইদুল ইসলামের মালিকানাধীন আল-আরাফাত সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেক কর্মচারীকে মাসে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা পরিশোধ করার শর্ত ছিল। সেই হিসেবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬০ টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও মাত্র ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জুয়েল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময় কাজ করলেও আমাদের ১০ মাসের মাসের বেতন তাদের দেওয়া হচ্ছে না। ঠিকাদার উল্লেখিত পরিমান টাকা আত্মসাত করে লাপাত্তা রয়েছে। বেতন না পেয়ে আমরা মানবেতর জীবন-যাপন করছি। এর আগে আবার নতুন করে নিয়োগ পেতে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন ঠিকাদার। কিন্তু সেই টাকা না দেওয়ায় আমাদের ৮ জন দক্ষ কর্মীকে বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া উদ্যোগ নেন ওই ঠকাদার
ভুক্তভোগী শুভ রায় ও আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন ঠিকাদার তাঁদের কাছ তিন থেকে এক লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার ওবাইদুল ইসলামের সাথে চেস্টা করেও যোগাযোগ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, হাসপাতালে আউট সোর্সিংয়ের কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারি নেই। আর বেতনের টাকা তাঁরা পেয়েছেন কী না, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেখার দায়িত্ব নেই । এটি সর্ম্পর্ণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়-দায়িত্ব।
এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফইম উদ্দিন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেনে।
পড়ুন: ভয়াবহ বন্যায় ফেনীতে ৯৮টি গ্রাম প্লাবিত
দেখুন: পটুয়াখালী থেকে উপজেলা নির্বাচনের সর্বশেষ
ইম/


