বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অরক্ষিত নালা ও খালগুলো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গতকাল নালায় পড়ে আরেক হুমায়রা নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ বছরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খাল ও নালায় পড়ে। এমন মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় অরক্ষিত খালগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয় চট্টগ্রামে খাল ও নালাগুলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নালায় ও খালে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আহতের সংখ্যার কোন হিসেব নেই। নগরের অধিকাংশ খাল ও নালায় নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। ফলে দূর্ঘটনা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। যদিওবা সিটি কর্পোরেশন খালের পাশে নিরাপত্তা দেয়ালের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এদিকে গতকাল হালিশহর আনন্দিপুরে নালায় পড়ে নিহত হন তিন বছরের শিশু মোছাম্মদ হুমায়রা।
চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল নগরীর কাপাসগোলা এলাকায় নালায় পড়ে সেহেরীস নামে ৬মাস বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয় ।পরে চাক্তাই খালের চামড়া গুদাম এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদে অরক্ষিত নালায় পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার মৃত্যু হয়। একই বছরের ২৫ আগস্ট মুরাদপুর মোড়ে পা পিছলে নালায় পড়ে যান সালেহ আহমদ নামে এক সবজি ব্যবসায়ী। নালায় পানির প্রচণ্ড স্রোত তাকে মুহূর্তেই টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার চার বছর পার হলেও সালেহ আহমদের লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তথ্যমতে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে খাল ও নালায় পড়ে।
বর্ষায় যখন পানির স্রোত থাকে, উপচে পড়ে নালা ও খালের সঙ্গে রাস্তা একাকার হয়ে যায় তখনই বেশি ঘটে দুর্ঘটনা। খালে ও নালায় পড়ে নাগরিকদের এমন মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। সিডিএ, চসিক এ ব্যাপারে দায় এড়াতে পারেননা বলেও অভিমত সচেতন নগরবাসীর।
নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতার উপরও জোর দেন বিশিষ্টজনেরা। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এসব ঘটনায় ক্ষতিপূরণও দাবী করেন তিনি। এদিকে নালায় পড়ে শিশু হুমায়ুরার মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি গঠন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। কমিটিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
পড়ুন : থমকে আছে চট্টগ্রামের ২৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প


