‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারায় জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জারি করা হয়েছে, তাতে বাস গাড়ীর আয়ু কাল ২০ বছর, ট্রাক-এর ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবীতে গত ১ জুলাই সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। যা পরিবহন সেক্টরকে ধ্বংসের পায়তারা এবং গাড়ীর ফিটনেস সার্টিফিকেট বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ এবং গণপরিবহনের উপর আরোপিত বর্ধিত প্রত্যাহারসহ যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি, গাড়ীর আয়ুকাল ও ফিটনেস সার্টিফিকেট বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
রবিবার (১৩ জুলাই) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কার্যালয়ে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুজ্জামান জোয়াহির।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদ কোন গাড়ির মালিক নয় বলে অপপ্রচার চালানো হয়। মাওলানা লোকমান আহমদ সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ২০০২-২০০৭ পর্যন্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০০৭-০৯ সাল পর্যন্ত সিলেট আন্তঃজেলা চেয়ার কোচ ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব¡ পালন করেন। স্বৈরাচারী ফখরুদ্দিন সরকারের সময় যখন বিশেষ করে সিলেটের পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তখন মালিক-শ্রমিকের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ পালন করেন এবং টাউন বাস মালিক সমিতির পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বোপরি তিনি জন প্রতিনিধি হিসাবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। মাওলানা লোকমান আহমেদের মালিকানায় বর্তমানে একটি বাস চালু আছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, ২০১৩ সাল থেকে অদ্যবধি সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, সিলেট জেলার সর্বত্বরের মালিকদের অর্থাৎ সিলেট জেলা মালিক সমিতির অন্তভূক্ত ১৩টি রোড উপ-কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী অ-রাজনৈতিক মালিক সংগঠন। যা দীর্ঘ দিন যাবৎ মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পূর্বের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরন পূর্বক বার্ষিক সাধারণ সভা ও কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠনতান্ত্রিকভাবে ব্লু-বুক/এসি কাগজের মালিকদের নিয়ে ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত কমিটি দায়িত্বভার গ্রহন করেই সিলেট জেলার পরিবহন সেক্টরকে আরো শৃংঙ্খলাবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন সহ মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে কাজ শুরু করে। যানজট নিরসনকল্পে যে সব প্রতিবন্ধকতা আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছিল তা নিয়ে ত্রিপক্ষীয় অর্থ্যাৎ জেলা প্রশাসন, মালিক-শ্রমিক সার্বক্ষনিক নজরধারীর মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছি।
মালিক-শ্রমিক নেত্রীবৃন্দের সাথে কোন ধরনের পরামর্শ না করে অপরিকল্পিত ভাবে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের কারণে অর্ধেকেরও বেশি গাড়ী রাস্তায় যত্রতত্র ভাবে রেখে গাড়ী পরিচালনা করতে হচ্ছে। নিম্নমানের কাজের জন্য এখনই অনেক ক্ষেত্রে টার্মিনাল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাইওয়ে রোডে বাজার সমুহে গাড়ী পার্কিং এর জায়গা, রাস্তার উভয় পাশের জলজ জায়গা বেদখল হয়ে আছে। রাস্তায় পাথর সহ ৩০ টনের ট্রাক অনেক ক্ষেত্রে ৪০/৪৫ টন সহ যাতায়াত করে। তাই অবিলম্বে পাকিং এর জায়গা, জলজ জায়গা উদ্ধারসহ অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর টুলপ্লাজা দুই লেনের কার্যক্রম চালু না হওয়ার কারণে দীর্ঘ দিন যাবত দীর্ঘ আকারে যানজট লেগে থাকতো। পরবর্তীতে আমরা বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে দুই লেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর ব্যবস্থা প্রদান করা হয়। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে শেরপুর টুলপ্লাজা যানজট মুক্ত পরিবেশে গাড়ী চলাচল করছে। অবৈধ সিএনজি (অটোরিক্সা) নিয়ে আমরা ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এককভাবে আবার কখনও যৌথভাবে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম অদ্যবদি পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইওয়ে রোডে সিএনজি চলাচল রহিতকরণ করা হয়েছে। তথাপি মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ও এক জেলার গাড়ী অন্য জেলায় অদক্ষ ড্রাইভার দ্বারা অতিরিক্ত যাত্রী সহকারে চলাচলের কারণে রাস্তায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সাথে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অকালে অনেক প্রাণ জড়ে যাচ্ছে, যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। সিএনজি অটোরিক্সা অবৈধভাবে চলাচল বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। গত বছরের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে পাথর কোয়ারী নিয়ে যে আন্দোলন হয়, তাতে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক- শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাটে শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে সক্রিয় ভাবে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে আবারও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের এ বছরের ১৩ জানুয়ারি সকল কোয়ারীর ইজারা বন্ধের নিদের্শ বাতিল করে এবং পাথর ব্যবসায়ীসহ শ্রমিকদের জয় হয়। পরবর্তীতে গত ২৭ এপ্রিল প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষায় সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারীর ইজারা প্রদান আবারও স্থগিত করে সরকার।
আমরা আবারও পাথর কোয়ারী খুলে দিয়ে পাথর সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি ব্যবসা প্রতিষ্টান খুলে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
পড়ুন: সিলেটে চা দিতে দেরি হওয়ায় হোটেল কর্মচারী খুন
দেখুন: স্ত্রীর অনুরোধে কুমির হলেও আর মানুষ হতে পারেননি!
ইম/


