১২/০২/২০২৬, ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সংকটে জর্জরিত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, অস্ত্রোপচার বন্ধ

জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের অনুপযুক্ত পরিবেশ, চিকিৎসক সংকট এবং অপর্যাপ্ত জনবল-এই তিনে মিলে মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ রোগীরা যেমন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি দুর্ভোগে পড়েছেন গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির রোগীরাও, যারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী চিকিৎসার আশায় এই হাসপাতালে
আসেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে সিনিয়র কনসালটেন্ট অপারেশন থিয়েটার পদ রয়েছে মোট ১০টি। তবে বর্তমানে কেবল শিশু বিভাগে একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট কর্মরত রয়েছেন। বাকি ৯টি পদ-মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী, চক্ষু ও ইএনটি বিভাগে-দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট পদটি বছরের পর বছর ধরে ফাঁকা থাকায় জটিল অপারেশন কার্যত বন্ধ।

বর্তমানে সার্জারি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন কেবল একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট, ডা. অঞ্জন চন্দ্র কর্মকার, যিনি কেবল ছোটখাটো অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন। গাইনী বিভাগেও নেই কোনো সিনিয়র কনসালটেন্ট।

যিনি জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োজিত, তিনি বাস্তবে ঢাকার একটি ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত থাকলেও মুন্সীগঞ্জ হাসপাতাল থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। জানা গেছে, তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজি অফিস) আদেশে ঢাকায় কর্মরত।
অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের অবস্থাও উদ্বোজনক। দুই মাস আগে এখানকার একমাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট বদলি হয়ে যাওয়ায় পদটি শূন্য রয়েছে। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এসে অ্যানেসথেশিয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। বাকি দিনগুলোতে কোনোমতে মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে হার্নিয়া, হাইড্রোসিল, অ্যাপেন্ডিসাইটিসসহ সাধারণ অপারেশনগুলো চালানো হচ্ছে।

এই অবস্থায় হাসপাতালে জটিল বা জীবনরক্ষাকারী অপারেশন কার্যত বন্ধ। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তথ্যমতে, মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০টি বড় ধরনের অপারেশন এবং কিছু ছোটখাটো অপারেশন চললেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি অবহেলিত। নতুন ভবন হলেও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট দূর না হলে এটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে থাকবে। “হাসপাতাল আছে, কিন্তু সেবা নেই”-এমন মন্তব্য করেছেন বহু রোগী ও স্বজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র ভবন নির্মাণ করে বা যন্ত্রপাতি বসিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন দক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ জনবল। তারা জোর দিয়ে বলেন, পদগুলো দ্রুত পূরণ না হলে মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য এই হাসপাতাল অনেকটাই নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মেদ কবির বলেন, “এই সংকটের কারণে জনগণ মানসম্মত বিশেষজ্ঞ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে গাইনী ও সার্জারি বিভাগের জটিল অপারেশন ব্যতীত সীমিত আকারে সাধারণ অপারেশন চালু রয়েছে। অ্যানেসথেশিয়া কনসালটেন্টের পদ শূন্য থাকায় আমরা সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দিয়েছি। আপাতত টংগিবাড়ী থেকে একজন কনসালটেন্ট সপ্তাহে দুই দিন এসে সেবা দিচ্ছেন।

পড়ুন: বাস মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা সেই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

দেখুন: সড়ক—সেতুতে স্বপ্ন দুয়ার খুলেছে বান্দরবানে 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন