গোপালগঞ্জে জুলাই শহীদদের চেতনাকে ধারণকারী বীর আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়াবহ নৈরাজ্যের তীব্র প্রতিবাদে গাজীপুরে আলাদা আলাদা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বাদ আসর গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভে অংশ নেন মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সরকারের দমননীতি, অবৈধ দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদী শক্তির আশ্রয়ে পরিচালিত হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বর্বর হামলা প্রমাণ করেছে, যারা ৭১-এ পরাজিত হয়েছিল, তারা এখনো এদেশে ফ্যাসিস্ট রূপে ছদ্মবেশে টিকে আছে। কিন্তু জনগণের জাগরণ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সেই পরাজিত শক্তি আবারও আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।”
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম ফারুক বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় চেতনার বাতিঘর। তাদের রক্তধারা ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে। সেই পথে নতুন প্রজন্ম আজ শপথ নিচ্ছে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ার।”
বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ হোসেন আলী, গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবী এবং গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মোঃ খাইরুল হাসান। তারা বলেন, “শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে সরকার তার ভয় এবং পতনের পূর্বাভাসই প্রকাশ করেছে। আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকব।”
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। ছাত্রসমাজ জেগেছে, এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আগুন আর নিভবে না।”
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয় এবং নতুন কর্মসূচিরও আভাস দেওয়া হয়।
এদিকে গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি সফিপুর বাজার থেকে শুরু হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ এপেক্স মোড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি শফিউদ্দিন।
বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া দোসররা এখনো গোপালগঞ্জসহ সারাদেশে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট পরাজিত শক্তি, যারা গণআন্দোলনে পরাভূত হয়ে পড়েছে, তারাই আতঙ্কে জুলাই যোদ্ধাদের-সমাবেশে হামলা চালিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে—এই দেশ এখনো নিরাপদ নয় মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য।
তারা আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সমাবেশ ছিল সাহস, চেতনা ও আত্মোৎসর্গের মশাল। সেই মশাল নিভিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে শেখ হাসিনার দোসররা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—জুলাইয়ের শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না, আর যারা এই রক্তাক্ত ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে, তারা কোনো দিন রেহাই পাবে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আব্দুল জলিল আকন্দ, মোস্তাফিজুর রহমান খান, শাহ আলম বকশী, বেলাল হোসেন সরকার, ইয়াসিন আলী মৃধা প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে মিছিল থেকে ঘোষণা আসে”এই রাষ্ট্র নিয়ে ফ্যাসিস্ট পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্রকারী দোসরদের হাত থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হবে।আর একটুও দেরি নয়—দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
পড়ুন : গাজীপুরে চাঁদাবাজি বন্ধ ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ


