১২/০২/২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া ১৫ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত চালক অনিকের

কুমিল্লা নগরীতে এক যাত্রীর ফেলে যাওয়া ১৫ লাখ টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে নগরীর বজ্রপুর এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। সৎ চালকের নাম অনিক, যিনি নগরীর চৌধুরী পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তার বাবাও একজন অটোরিকশা চালক।

জানা যায় , সকাল বেলায় ‘মরণ’ নামের এক যাত্রী তার শিশু কন্যাকে স্কুলে পৌঁছে দিতে অনিকের অটোরিকশায় ওঠেন। স্কুলে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে তাড়াহুড়োয় ভুল করে টাকার ব্যাগটি রেখে নেমে যান তিনি।

অন্যদিকে, যাত্রী নামিয়ে অনিক যান রাজগঞ্জ এলাকার একটি চা দোকানে। চা খাওয়ার সময় হঠাৎ তার চোখ পড়ে গাড়ির পেছনের সিটে পড়ে থাকা একটি নীল পলিথিন ব্যাগের দিকে। তিনি ব্যাগটি খুলে দেখেন ভেতরে আরও একটি কালো পলিথিন ব্যাগ, যার ভেতরে মোড়ানো ছিল বিপুল পরিমাণ টাকা—গুনে দেখা যায় পুরো ১৫ লাখ।
এমন বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়ে হতবাক হয়ে যান অনিক। এরপর দ্রুত পাশের আরেক চালককে ডেকে পুরো বিষয়টি জানান। সেই সহকর্মী ও অনিকের বাবা—উভয়েই তাকে টাকা ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেন। সৎ মনোভাব নিয়ে অনিক সিদ্ধান্ত নেন টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার।

পরবর্তীতে তিনি আবার বজ্রপুর এলাকায় ফিরে গিয়ে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অবশেষে টাকার মালিক মরণকে খুঁজে বের করেন। নিশ্চিত হয়ে ব্যাগটি তুলে দেন তার হাতে।

অনিক বলেন, “টাকা দেখে ভয় পেয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে ফোন দেই। বাবা বললেন—‘পরের জিনিস ফেরত দে, এগুলা দিয়ে কিছু হবে না।’ আল্লাহর রহমতে আমি ঠিক মানুষকে খুঁজে পাইছি।”

অপরদিকে, টাকার মালিক মরণ জানান, তিনি ছাতিপট্টি এলাকার একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার সময় ভুল করে টাকা ফেলে যান। তিনি বলেন, “টাকা খোয়া যাওয়ার পর আমি প্রায় অস্থির হয়ে পড়ি। এমন সময়ে অনিক ভাইয়ের মতো একজন সৎ মানুষ ফেরত দিয়েছেন—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এমন মানুষ সমাজে বিরল। তার জন্য অনেক দোয়া রইলো।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জুলাই শহীদ দিবসে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন