সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মঞ্চে পড়ে যান জামায়াত আমির। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। তারপর কয়েক মিনিট নেতাকর্মীদের সেবা দেওয়ার পর তিনি আবার বক্তব্য শুরু করেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেল প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জামায়াতের চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। তৎপর হয়ে উঠেন স্বেচ্ছাসেবকরা। একপর্যায়ে তিনি বসে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন ততসময় লড়াই অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। মুক্তি অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। যদি মানুষের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে মালিক হব না, সেবক হবো।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলাম সরকার গঠন করলে কোনো দুর্নীতি করবে না, শুল্ক দিয়েই গাড়িতে চড়বে।
অসুস্থ হওয়ার পরও মঞ্চে বসে বসে তার বক্তব্য শেষ করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীদের বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়েছে। এবার হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
জামায়াত আমির আরও বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে গেলেও জামায়াতের কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না। আমাদের আরও একটি লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। সমাবেশ শুরুর ৬ ঘণ্টা আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে হাজার হাজার জামায়াতের নেতাকর্মী অবস্থান করছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে আসা নেতাকর্মীরা রাজধানীতে এসে মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক দাাঁড়িপাল্লা শোভা পাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা ও দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট,পাঞ্জাবি পরে এসেছে হাজার নেতাকর্মী।
শনিবার (১৯ জুলাই) ফজরের পর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জাতীয় সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন ও এক কোটিরও বেশি প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এককভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে দলটি।
পড়ুন : সমাবেশ শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান


